মুখ খুললেই কারাগারে!

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তেও রাশিয়ায় এখন ভøাদিমির পুতিন সরকারের বিরোধীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। মস্কোর উনিশ বছরের চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক ছাত্রী মারিয়া দুবোবিক তার বন্ধুর সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় সরকারবিরোধী মন্তব্য করায় আটক হয়েছেন। তাকে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ অতিক্রান্ত হওয়ার পরও আগামী সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত শ্রীঘরে কাটাতে হবে।

এখানেই শেষ নয়। মস্কোর রাস্তায় রাস্তায় গৃহহীন যে সমস্ত মানুষ ঘুরে বেড়ান তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে বিশ্বকাপ কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে অবস্থিত অস্থায়ী শিবিরে। যারা অন্যত্র চলে যেতে অস্বীকার করছেন তাদের দেওয়া হচ্ছে উত্তম-মধ্যম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মস্কোর এক পুলিশকর্তা রাশিয়ার এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিকে বলেছেন, ‘জোর করেই ওদের আমরা বিশেষ বাসে তুলে দিচ্ছি। কখনো কখনো মুখের কথাতেই ওদের বিদায় জানাচ্ছি। কখনো বা লাঠি দিয়ে প্রহার করছি।’

অবশ্য সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা অবশ্যই মারিয়ার গ্রেফতার হওয়াটা। যা নিয়ে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোতেও হইচই পড়ে গেছে। আদালতে তুলে তার বিরুদ্ধে চরমপন্থি গোষ্ঠী সৃষ্টির প্রচেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মারিয়ার সঙ্গে আটক করা হয়েছে তার পাঁচ বন্ধুকেও! তিনি আদালতের কাছে আকুতি জানিয়ে আবেদন করেন, তাকে যেন গৃহবন্দি করে রাখা হয়। কিন্তু সেই আবেদনও নাকচ করে দেওয়া হয়। বিচারাধীন মারিয়ার প্রতি সমব্যথী এক আইনজীবী ম্যাক্সিম পাশকভ বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের জন্য নিরাপত্তা নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে সরকার। যার ফলে নির্দোষ নাগরিকরাও আচমকা বিপদে পড়ছেন।’

অন্যদিকে, ইরিনা নামের এক গৃহহীন মহিলা দাবি করেছেন, অসহায় দরিদ্র মানুষের ওপর উচ্ছেদের নামে অত্যাচার করা হচ্ছে এমন একটা সময়, যখন রাস্তাঘাটে লোকজন থাকছে না। দেশটির গণমাধ্যমের খবর- বিশ্বকাপের আয়োজক শহর কাজানের গৃহহীন মানুষদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাতারস্থানে প্রত্যন্ত একটি জায়গা নাবেরেঝাইন চেলনিতে। উচ্ছেদিতদের একজন ইরিনা। তিনি বলেছেন, ‘কেউ চলে যেতে চায় না। কিন্তু প্রতিবাদ হলেই ওরা বলপ্রয়োগ করছে।’ গণমাধ্যমের দাবিÑ যারা প্রতিবাদ করছেন তাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ভেরের কাছে ৮০০ শয্যার কোনো নির্জন এলাকায়। সেখানে নানা ধরনের অত্যাচারও হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মস্কোর সমাজসেবা অধিদফতর অবশ্য যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ‘গৃহহীন মানুষরাও এ দেশেরই নাগরিক। তাই জোর করে ওদের অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়াটা অসাংবিধানিক। আমাদের সরকার এমন কোনো নির্দেশ দেয়নি যে, বিশ্বকাপের জন্য ওদের দূরে কোথাও সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমরা সব সময়ই আইন মেনে কাজ করি। আমরা তো গৃহহীন মানুষদের নিয়ে মস্কো পার্কে ফুটবল ম্যাচও করেছি।’

রাশিয়ার যে সংবাদমাধ্যমে অসহায় গৃহহীনদের নিয়ে মানবিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তাদের দাবি সরকারের বক্তব্য সঠিক নয়। তাছাড়া অতীতেও রাশিয়াতে খেলাধুলার বড় আসর বসার সময় একই ধরনের কাজ হয়েছে। এমনকি সোভিয়েত ইউনিয়ন বিভাজনের আগে মস্কো অলিম্পিকের সময় রাজধানীর রাস্তাঘাট কার্যত সুনসান করে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে কেজিবির প্রাক্তন প্রধান পুতিনের সরকারও পুরনো অতীতটাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

এদিকে, ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক গ্যারি লিনেকার সংবাদ মাধ্যমের একটি অনুষ্ঠানে এসে রাশিয়ায় গিয়ে পুতিনের সঙ্গে দেখা করার প্রস্তাব বা সুযোগ ফিরিয়ে দিয়েছেন। ওই অনুষ্ঠান থেকে তিনি যা উপার্জন করলেন তাও দান করে দিলেন। এখানেই শেষ নয়, পুরো অনুষ্ঠানে তিনি হাতে পরেছিলেন সমকামীদের সমর্থন করা ‘রিস্টব্যান্ড’। কিন্তু রাশিয়াতে সমকামীদের সাধারণভাবে অপছন্দ করা হয়।

"