রোনালদোর ‘মিশন ইম্পসিবল’

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

দু’বছর আগে তার নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো বড় কোনো টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পর্তুগাল। আর তাতেই নতুন কোনো চ্যাম্পিয়ন দল পায় ইউরো বিশ্বকাপ। এবার তাকে কেন্দ্রে করেই প্রথমবার বিশ্বসেরা হওয়ার স্বপ্ন দেখছে কিংবদন্তি ইউসেবিওর দেশ। পর্তুগালের সেই কা-ারির নাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

বিশ্বকাপের জন্য শুভেচ্ছা জানাতে সম্প্রতি পর্তুগাল দলকে রাজধানী লিসবনে ন্যাশনাল কোচেস মিউজিয়ামে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেল দে সৌসা। সেখানেই রোনালদো বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ আমরা ফেভারিট নই ঠিকই। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই রাশিয়া যাব। কারণ, ফুটবলে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।’

বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে পর্তুগালের সঙ্গেই রয়েছে স্পেন, মরক্কো ও ইরান। ১৫ জুন সোচিতে প্রথম ম্যাচেই রোনালদোদের প্রতিপক্ষ স্পেন। শুরুতেই যে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে সেটা মানছেন ‘সিআর সেভেন’। তিনি বলেছেন, ‘আমরা ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চাই। গ্রুপ পর্যায়ে প্রথম ম্যাচটাই সব চেয়ে কঠিন। কিন্তু আমাদের ভয় পেলে চলবে না। নিজেদের ওপর আস্থা রাখতে হবে।’

রোনালদোর মতে, স্বপ্ন না দেখলে সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়। পর্তুগাল অধিনায়ক বলেছেন, ‘ফুটবলারদের সবসময় স্বপ্ন দেখা উচিত। বিশ্বাস করি, বিশ্বকাপে আমরা সবাই নিজেদের সেরাটাই উজাড় করে দিতে পারব।’

প্রেসিডেন্টের সামনেই ২০১৬ ইউরো কাপের উদাহরণ দিয়ে সতীর্থদের উদ্বুদ্ধ করেছেন রোনালদো, ‘দুই বছর আগে ইউরো কাপে আমাদের মূলমন্ত্র ছিল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে যাওয়া। এবং নিজেদের ওপর কখনো আস্থা না হারানো। রাশিয়াতেও একই লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে।’ রোনালদো আরো বলেছেন, ‘আমরা পর্তুগালের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছি। দেশের সম্মান রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে।’ ফ্রান্সে ইউরো কাপের ফাইনালে অবশ্য শুরুতেই চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন রোনালদো। কিন্তু ডাগ আউটে কোচ সান্তোসের পাশে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের উজ্জীবিত করেছিলেন বর্ষসেরা ফুটবলার।

 

১৪

 

দেশের ফুটবল অঙ্গনের বিশ্বকাপ ভাবনা

 

 

 

গড়িয়ে যাওয়াটাই সময়ের ধর্ম। সেই ধর্ম মেনে বছর, মাস, দিনের গন্ডি পেরিয়ে অপেক্ষার পালা ঘণ্টার কাঁটা মেপে চলছে। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তারপরই পর্দা উঠবে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ তথা বিশ্বকাপ ফুটবলের। শুরু হবে ফুটবল মহাযজ্ঞ। যেখানে বিশ্বের ৩২টি দল শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকু করবে। দিন শেষে কেউ সেই চেষ্টায় সফল হবে। কারো চেষ্টা বৃথা যাবে। তবে মেসি, নেইমার, রোনালদো, গ্রিজমান, জেসাস, রাশফোর্ড, সালাহদের ফুটবল নৈপুণ্যে পুরো একটি মাস বুঁদ হয়ে থাকবে গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা। দিন শেষে কার হাতে শিরোপা উঠবে? সেটা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক থাকতে পারে। কেউ আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে রাখছেন। কেউ রাখছেন ব্রাজিলকে এগিয়ে। কেউ বা অন্যদের। দেশের ফুটবল অঙ্গনের কোচ, সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়দের মতে, এবারের বিশ্বকাপে কোন দল ফেভারিট? চলুন জেনে নেওয়া যাক তাদের যবানিতে।

সাবিনা খাতুন : জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের মতে, এবারের বিশ্বকাপে ফেভারিট আর্জেন্টিনা। তিনি আর্জেন্টিনার পার সমর্থকও। বিশ্বকাপ নিয়ে সাবিনা বলেন, ‘আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। আমার মতে, তারাই এবার ফেভারিট। আগেরবার ফাইনালে হেরেছি। এবার আশা করছি মেসির হাত ধরে শিরোপাটা চলে আসবে। আর যেহেতু সাপোর্ট করি সেহেতু হারলেও করব, জিতলেও করব। তবে আশা তো থাকবেই আর্জেন্টিনা ভালো করুক। তারা শিরোপা জিতুক।

রায়হান হাসান : জাতীয় দলের তারকা ডিফেন্ডার রায়হান হাসান কোন দলের সমর্থন করেন সেটা বলেননি। কিন্তু তিনি জানিয়েছেন এবারের বিশ্বকাপে ইউরোপের দলগুলো ফেভারিট। বিশেষ করে ইংল্যান্ড, ‘আমার মতে, ইউরোপের দলগুলো এবারের বিশ্বকাপে ফেভারিট। যেহেতু ইউরোপে খেলা। আগের বিশ্বকাপটি হয়েছিল লাতিন আমেরিকায়। সেখানে লাতিন আমেরিকার দলগুলোর জন্য অ্যাডভান্টেজ ছিল। আমরা দেখেছি আর্জেন্টিনা ফাইনাল খেলেছে। এবার ইউরোপের ১৩টা দল বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। তাই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মতো ফিফার রেটেড দলের চেয়ে ইউরোপের দলগুলোকে এগিয়ে রাখব। বিশেষ করে স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম। এবার ইংল্যান্ড ভালো করবে আমার বিশ্বাস। ইংল্যান্ড বলতে গেলে সব বিশ্বকাপেই বাজে খেলেছে। তবে এবার কেন জানি মনে হচ্ছে ভালো করবে। তবে এটা নিশ্চিত যে ইউরোপের একটা দল ফাইনাল খেলবে।

মতিন মিয়া : রংমিস্ত্রি থেকে পেশাদার ফুটবলার হয়ে ওঠা মতিন মিয়া ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে মাতামাতি করতে রাজি নন। তিনি বিশেষ কোনো দলের সমর্থক নন। তবে একজন ফুটবলার হিসেবে তার মতে, ফ্রান্স এবারের বিশ্বকাপে ফেভারিট। তার মতে, ফাইনালটা ফ্রান্স ও ব্রাজিলের মধ্যে হলে তিনি অবাক হবেন না, ‘আসলে আমি বিশেষ কোনো দলের সমর্থক নই। সবাই ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনাকে নিয়ে মেতে আছে। আমি মনে করি, এবারের বিশ্বকাপে ফেভারিট ফ্রান্স। কেন জানি মনে হচ্ছে ফাইনালটা ফ্রান্স আর ব্রাজিলের মধ্যে হতে পারে। ব্রাজিলের অধিকাংশ খেলোয়াড় ভালো ভালো ক্লাবে খেলছে। তাদের পারফরম্যান্সও ভালো। একইভাবে ফ্রান্সের অধিকাংশ খেলোয়াড় ভালো ভালো ক্লাবে খেলছে। তারাও বেশ ছন্দে আছে। নিয়মিত গোল পাচ্ছে। প্রভাব বিস্তার করে খেলছে বিভিন্ন লিগে। সে কারণেই আমার মনে হয় ফ্রান্স ফাইনাল খেলবে। তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে ব্রাজিল।

গোলাম রাব্বানী ছোটন : বাংলাদেশের নারী ফুটবলকে বদলে দেওয়া কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন ব্রাজিলের সমর্থক। সে কারণে তিনি ব্রাজিলকেই রাশিয়া বিশ্বকাপে ফেভারিট মানছেন। নেইমার, জেসুস, কুতিনহো আর ফিরমিনহোতে ভর করে ব্রাজিল তাদের ষষ্ঠ শিরোপা জিতুক তেমন কিছুই চাওয়া তার, ‘রাশিয়া বিশ্বকাপে আমার ফেভারিট ব্রাজিল। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তারা খুব দাপুটে ফুটবল খেলেছে। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে শীর্ষে থেকে রাশিয়া বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে। তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশেলে তারা ভালো দলও গড়েছে। তাই ব্রাজিলকে আমার ফেভারিট মনে হচ্ছে। নেইমার, গ্যাব্রিয়েল জেসাস, ফিলিপে কুতিনহো, ফিরমিনোদের কাঁধে ভর করে ব্রাজিল এবার ষষ্ঠ শিরোপা ঘরে তুললে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

শেখ মোহাম্মদ আসলাম : আশির দশকে ত্রাসসৃষ্টিকারী গোলদাতা শেখ মোহাম্মদ আসলাম। তিনি বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে এগিয়ে রাখছেন। তাদের গতিময় ফুটবলের ভক্ত তিনি। তার মতে, জার্মানির গতির কাছেই পরাস্ত হবে বাকিরা, ‘বিশ্বকাপে আমি জার্মানিকে এগিয়ে রাখতে চাই। কারণটা হলো জার্মান যে গতিময় ফুটবল খেলে অন্য কোনো টিম তাদের সেই গতির সঙ্গে পেরে ওঠা কঠিন। তার ওপর জার্মান টিমে কিছু সংস্কার করেছে। যেমন কিছু নতুন নতুন খেলোয়াড় আসছে। তারা দুর্দান্ত ফর্মে আছে। নতুন এবং পুরনোদের সংমিশ্রণটা টেরিফিক। তারা কিন্তু ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ জিতে এসেছে। এটাতে তাদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে। তাছাড়া লড়াকু মনোভাবটা জার্মান জাতির মধ্যে প্রকটভাবে দেখা যায়। তারা আসলে হাল ছেড়ে দেয় না।

"