চ্যাম্পিয়ন তো কিতারোভিচ!

প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

রাশিয়া বিশ্বকাপের শুরুতে খুব বেশি মানুষ চিনতেন না ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কলিন্দা গ্রাবার কিতারোভিচকে। স্বাগতিক দেশ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মার্কেলের মতো বিশ্ব রাজনীতিতে অত বড় ভারিক্কি নামও নন তিনি। এমনিতে ছেলেদের ফুটবল বিশ্বকাপ। তারকা খ্যাতিতে সবার আগে থাকার কথা লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমারদের। আর ক্রোয়েশিয়া বলতেই লোকে জানতো ডেভর সুকার, লুকা মডরিচ, ইভান রাকিটিচদের। কিন্তু সবাইকে ছাপিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপের অন্যতম তারকা এখন ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কিতারোভিচ। বিশ্বকাপে পা দিয়েই তারকা খ্যাতি পেয়ে গেছেন এই ৫০ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট।

কিতারোভিচ রাশিয়ায় এসেছিলেন কুটনৈতিক উদ্দেশে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি তিনি যোগ দিয়েছিলেন বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের ন্যাটো সম্মেলনে। তবে ফুটবল পাগল কিতারোভিচ ভিআইপি গ্যালারিতে থেকে বরাবর উৎসাহ দিয়ে গেছেন ক্রোয়েশিয়ান খেলোয়াড়দের। তার উপস্থিতিতে দুর্দান্ত সব জয়ও পেয়েছে ক্রোয়াটরা। লুঝনিকির ফাইনালেও তিনি ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ম্যাচ উপভোগ করেছেন। ম্যাচ শেষে ক্রোয়াটদের পরাজিত সৈনিকদের মাতৃস্নেহে বুকে জড়িয়ে সান্ত¡না দিয়েছেন। আর অভিনন্দন জানিয়েছেন শিরোপা জয়ী ফ্রান্সকে। বৃষ্টিভেজা ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিজেও কেঁদেছেন। হেসেছেন ফরাসিদের বিজয়ীয় আনন্দে। সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করেছেন অন্যান্য দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে। আর পরাজয়ের গ্লানি ভুলে মডরিচ-রাকিটিচদের সঙ্গে এক বিমানেই রাশিয়া ছেড়েছেন তিনি। দেশে ফিরে ফুটবলারদের বীরোচিত সম্মানও জানাবেন স্নেহবৎসল কিতারোভিচ।

সর্মথকতো বটেই বিশ্ব ফুটবল প্রেমীদের মাঝেও দারুণ জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন কিতারোভিচ। রাশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে সোচিতে পৌঁছে তাকে দেখা গেছে রাশান সর্মথকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মেতে উঠতে। তখন মাস্কটসহ উপস্থতি খুদে দর্শকদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবিও তুলেছেন তিনি। তার ফুটবল প্রেম কতটা তুঙ্গে, সেটা বোঝা যায় যখন তিনি ব্রাসেলসে ন্যাটোর প্রধান র্কাযালয়ে ব্রিটিশি প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ক্রোয়েশিয়ার জার্সি উপহার দেন।

তবে কলিন্দা কেবল ফুটবলের একজন অন্ধ সমর্থক নন, প্রেসিডেন্ট হিসেবেও তার যোগ্যতা প্রশ্নাতীত। ক্রোয়েশিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট তিনি। এর আগে তিনি দেশটির পররাষ্ট্র ও ইউরোপ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। পারেন ফ্রেঞ্চ, জার্র্মান, ইতালিসহ মোট পাঁচটি প্রধান ভাষায় কথা বলতে। বয়সের হাফসেঞ্চুরি করলেও তার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, নজরকাড়া সৌন্দর্য, ফ্যাশনের ঝলকানিতে বিশ্বকাপের ক্যামেরাটা বারবার নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়েছেন তিনি। তারকা খ্যাতিতে তিনি যেমন পাল্লা দিয়েছেন ফুটবলারদের সঙ্গে তেমনি সৌন্দর্যে ঈর্ষা জাগিয়েছেন ত্রিশোর্ধ্ব নারীদের বুকেও।

"