সাক্ষাৎকার : এসএম মাকসুদ কামাল

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চেতনা বিকাশের সুযোগ কম

উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সা¤প্রতিক সন্ত্রাসবাদ নিয়ে প্রতিদিনের সংবাদের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এসএম মাকসুদ কামাল। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মানসুরা আলম

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৬, ০০:০০ | আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৬, ১২:১৬

অনলাইন ডেস্ক

প্রতিদিনের সংবাদ : স¤প্রতি দেশে ঘটে যাওয়া কয়েকটি জঙ্গি কর্মকা-ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের নাম জড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষিত ও মেধাবি ছাত্রদের জঙ্গিবাদে আকৃষ্ট হওয়ার কী কারণ থাকতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

মাকসুদ কামাল : আমাদের দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের মানদ-ে উন্নীত নয়। একটা বদ্ধপরিবেশে সেখানে শিক্ষাদান করা হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা স্মার্টফোন, ল্যাপটপেই নিমজ্জিত থাকে। তাদের মুক্তবুদ্ধির চর্চার সুযোগ থাকে না। খেলাধুলার পরিবেশ নেই, সাংস্কৃতিক চর্চারও বেহাল অবস্থা। এমন শিক্ষাব্যবস্থায় তরুণদের অন্যদিকে ধাবিত করা সহজ। তাছাড়া অনেক শিক্ষার্থী উচ্চবিত্ত পরিবারের। তারা এক ধরনের চাকচিক্যের মাঝে বড় হয়। পরিবার থেকেও মূল্যবোধের শিক্ষা অনেক ক্ষেত্রে তারা কম পায়। তার ওপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসেও তারা সেই পরিবেশ থেকে বের হতে পারে না। ফলে দেশপ্রেম, দেশের ইতিহাস জানা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশের সুযোগ পায় না।

এক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?

মাকসুদ কামাল : এ ব্যাপারে অবশ্যই কর্তৃপক্ষকে সজাগ থাকতে হবে, যাতে আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শিক্ষার নামে অশুভ শক্তির ফাঁদে না পড়ে। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা বিশ্ববিদ্যালয়ের হারকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে আনা উচিত শিক্ষার পরিবেশ ও মানদ- রক্ষার বিচারে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনীতির চর্চাকে কি আপনি মুক্তবুদ্ধি চর্চার সহায়ক বলে মনে করেন?

মাকসুদ কামাল : হ্যাঁ, আমি তা মনে করি। অনেক মতাদর্শ নিয়ে যখন একটা কমিউনিটি গড়ে উঠবে তখন সেই পরিবেশে তরুণ ছাত্রছাত্রীরা তাদের নিজস্ব অভিমত ব্যক্ত করাসহ চারপাশে একটা মুক্তচর্চার বলয় তৈরি করতে পারবে। সব সঙ্কীর্ণতার ঊর্ধ্বে চলে যেতে পারবে। দেশ, সমাজ ও সংস্কৃতি নিয়ে ভাবতে পারবে। যেমনটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে হয়। এখানে অনেক ছাত্র সংগঠন, সেটা সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক যাই হোক না কেন তাদের পদাচারণা রয়েছে। যা তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম, দেশকে নিয়ে ভাবা, মানবতাবোধ জাগ্রত করাসহ বিভিন্নভাবে সাহায্য করে। ফলে জঙ্গিবাদের মতো নিকৃষ্ট সঙ্কীর্ণতাকে তারা সহজে জয় করতে পারবে বলেই আমি মনে করি।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কি পুরোপুরি জঙ্গিবাদ থেকে মুক্ত?

মাকসুদ কামাল : পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণত এ থেকে মুক্ত। তবে ব্যতিক্রম হতেই পারে। সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। তাদের বহিষ্কারসহ যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের বেশি দেখা যায়। তাদের একটা শক্ত পারিবারিক বন্ধন থাকে। ফলে মানবতাবোধ, মুক্তবুদ্ধির চর্চা তারা পরিবার থেকেই লাভ করে আসে। আমাদের শিক্ষকরাও অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠদান করেন। এখানে খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চার দ্বার উন্মুক্ত। ফলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গিবাদের উত্থানের সুযোগ নেই। তবে কেউ যদি এরপরও জড়িয়ে যায়, তাহলে সেটা সে ব্যক্তিগত দায়িত্বেই জড়াবে। বিশ্ববিদ্যালয় দায়ী থাকবে না।

জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে সচেতনতার লক্ষ্যে শিক্ষক সমিতি থেকে কী ধরনের উদ্যোগ আপনারা নিচ্ছেন?

মাকসুদ কামাল : আমরা অবশ্যই পদক্ষেপ নেব। আমরা কনভেনশন দেওয়ার কথা ভাবছি। তবে এখনো কিছু চূড়ান্ত করা হয়নি।

আপনাকে ধ্যনবাদ

মাকসুদ কামাল : প্রতিদিনের সংবাদকেও ধন্যবাদ

 

 

"