ক্যাবের অভিযোগ

পেঁয়াজ নিয়ে নীরব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের সরবরাহে সংকট তৈরি করে জনগণের ‘পকেট কাটলেও’ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। গতকাল রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে পেঁয়াজ বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এসব কথা জানিয়েছে ক্যাব।

সংগঠনটি আরো অভিযোগ করেছে, ভারতে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি হলেও পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল, মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকে পেঁয়াজ আমদানির কোনো তৎপরতা নেই। এ ছাড়াও সংকটকালীন টিসিবিকে কাজে না লাগিয়ে এটিকে অথর্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে রাখা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের ওপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতার কারণে সাধারণ জনগণের স্বার্থ বারবার ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে বলেও সংগঠনটি অভিযোগ তোলে।

সংগঠনটি জানায়, সামনে ঈদ ও পূজা আসার আগেই জরুরিভাবে পার্শ্ববর্তী দেশগুলা থেকে পেঁয়াজ আমদানি করাসহ পেঁয়াজ সংকট নিরসনে বর্তমান মজুতগুলোর সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত, আমদানিকারক ও খুচরা পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের যথাযথ মনিটরিং নিশ্চিত করা, সংকটকালীন সময়ে টিসিবিকে দ্রুত কার্যকর করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বাজার তদারকিতে মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বাজার মনিটরিং জোরদার করার জন্য প্রশাসনকে তৎপর হতে হবে।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দেশে বর্তমানে পেঁয়াজের চাহিদা বার্ষিক ২০-২২ লাখ টন সেখানে দেশেই উৎপাদিত হয় ১৭-১৮ লাখ টন। তবে কোরবানির ঈদে চাহিদা একটু বাড়লেও সরবরাহ জটিলতায় ও মজুতদারির কারণে দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের পকেট কাটে কিছু ব্যবসায়ী। আর দেশীয় কৃষকদের প্রণোদনা প্রদান করা সম্ভব হলে এবং ভোক্তা হিসাবে সচেতন হলেই এই সংকট সহজেই মোকাবেলা সম্ভব।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ব্যবসা বাণিজ্যে মূল উপসর্গ উৎপাদক, বিক্রেতা, শ্রমিক ও ভোক্তা। আর দেশে ব্যবসা বাণিজ্যের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে হলে এ পক্ষগুলোর স্বার্থ রক্ষা করা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে শুধু ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করে যাবতীয় নীতি প্রণয়ন করার কারণে অন্যপক্ষগুলোর স্বার্থ উপেক্ষিত হয়। ফলে দেশে ন্যায্য ব্যবসার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। সে কারণে ব্যবসায়ীরা নীতিনৈতিকতা বাদ দিয়ে যে যেভাবে পারে মজুত করে সরবরাহ সংকট তৈরি করে ১০০-১৫০ শতাংশ পর্যন্ত লাভে পণ্য বিক্রি করছে।

ভারতে পেঁয়াজের দামবৃদ্ধির অজুহাত তুলে বর্তমানে মজুত পেঁয়াজগুলো ৩-৬ মাসে পূর্বে আমদানি করা এবং পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট কাটলেও সরকার আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের যথাযথ নজরদারি করেনি। অন্যদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীদের দেখানো পথ অনুসরণ করে খুচরা ব্যবসায়ীরাও বেপরোয়া দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। সরকারের মাঠপর্যায়ে নজরদারির দুর্বলতার কারণে ১৭-১৮ শতাংশ পর্যন্ত চালের শুল্ক হ্রাস করে চাল আমাদানির পরেও চালের বাজারে তার প্রতিফলন ঘটেনি।

"