দুর্বল অবকাঠামোর কারণে বিনিয়োগে ঘাটতি

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৭, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্বল অবকাঠামোর কারণে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আকৃষ্ট হচ্ছেন না। অবকাঠামো উন্নয়নে পিছিয়ে থাকার কারণ হলো-যেসব অবকাঠামো গড়ে উঠছে তার বড় অংশই টেকসই হচ্ছে না দুর্নীতি ও অপচয়ের কারণে। দূর্বল অবকাঠামোর কারণেই বিনিয়োগ খরার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সংশ্লিষ্টদের কাছে। এমনকি অবকাঠামো প্রকল্প আরও গতিশীল হলে দেশের জেন্ডার বৈষম্যও হ্রাস পাবে বলে মনে করে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। গতকাল সোমবার এক প্রতিবেদন এ মন্তব্য করে সংস্থাটি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অধিকাংশ অর্থনৈতিক কার্মকান্ডের জন্য সড়ক পথ, নৌ পথ, বন্দরের অবকাঠামো দুর্বল হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে খরচ বাড়ে। আর এর প্রভাবেই বিনিয়োগে পিছিয়ে যায় উদ্যোক্তারা। সাম্প্রতি একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনেও বাংলাদেশের দুর্বল অবকাঠামোর চিত্র উঠে এসেছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেস রিপোর্ট ২০১৬-১৭’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নত দেশ তো বটেই, অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত অনেক দেশের চেয়েও অনেক পিছিয়ে। প্রতিবেদন অনুসারে, অবকাঠামো খাতে বিশ্বের ১৩৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৪তম।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রকল্প গ্রহন করছে। দ্রুত অবকাঠামো উন্নত না হলে সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন অভীষ্টের (এসডিজি) লক্ষ্যও পূরণ হবে না। এ সংকটের বাস্তবতা স্বীকার করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম সম্প্রতি বিনিয়োগবিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, অবকাঠামোর ঘাটতি নিয়ে ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৩০ সালে বিশ্বের ৩০তম বৃহৎ অর্থনীতির এবং ২০৪১-এর মধ্যে উন্নত দেশে পৌঁছানোর ভিশন বাস্তবায়িত হবে না।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, রেল ও নৌপথে যোগাযোগ উন্নয়ন ও সহজতর করতে না পারলে শুধু সড়ক-নির্ভরতা নিয়ে বেশিদূর এগোনো যাবে না। বন্দর, সমুদ্রবন্দরের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। একাধিক গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নেও যেতে হবে। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম অর্থনৈতিক করিডোর নির্মাণ করা গেলে দেশের অবকাঠামো একটা ভিত্তি পাবে বলে তারা মনে করেন।

বর্তমানে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ মাত্র জিডিপির ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। সেটা বাড়িয়ে জিডিপির ৭ শতাংশে নিতে হবে। সেই অর্থে দেশের উন্নয়নে এখনও বহুপথ পাড়ি দিতে হবে বলে মনে করে বিডা। সদ্যবিদায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশের জিডিপির আকার ছিল ১৯,৫৬,০৫৬ কোটি টাকা। অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ হয়েছে এর মাত্র ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। অবকাঠামো উন্নয়নে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ না আসার পেছনে তারা দেশীয় সম্পদের সীমাবদ্ধতা, বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব কম থাকা এবং বিদেশি বিনিয়োগে ভাটাকেই দায়ী করছেন দেশের অর্থনীতিবিদরা।

অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে চলতি বছর বিশ্বব্যাংক এক পূর্বাভাসে বলেছে, বাংলাদেশকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে অবকাঠামো খাতে ২০২০ সালের মধ্যে ৭৪-১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। অপরদিকে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশকে ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৩০ সালে বিশ্বের ৩০তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশে পরিণত করতে হলে অবকাঠামো খাতে প্রতিবছর জিডিপির ৫ শতাংশ হারে ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। আর ২০৩০ সালের মধ্যে বিনিয়োগ প্রয়োজন ৩২০ বিলিয়ন ডলার।

"