আসছে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সহায়ক মুদ্রানীতি

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৭, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিগগির আসছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন মুদ্রানীতি। কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জনের ঘোষণা থাকবে এই নতুন মুদ্রানীতিতে। উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকবে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর ইঙ্গিত। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৩ জুলাই প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে। গভর্নর ফজলে কবির এই ঘোষণা করবেন। তবে একই সাথে নতুন মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। এর কারণ হিসেবে বর্তমানে রেমিট্যান্স ও রফতানি আয় এখনো নেতিবাচক ধারায় রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

নতুন মুদ্রানীতি তৈরির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্টজনের সঙ্গে সম্প্রতি বৈঠক করছেন। বৈঠকে আসা পরামর্শের আলোকে তৈরি করা হবে নতুন মুদ্রানীতি। যেখানে উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দীন আহমেদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদসহ আরো অনেকে।

আসন্ন নতুন মুদ্রানীতি সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মুদ্রানীতিতে বেসরকারি বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এক্সচেঞ্জ রেট সহনীয় পর্যায়ে আনতে হবে। খেলাপি ঋণ কমানো ও সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজর দেয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের মূলধনীয় যন্ত্রপাতির আমদানি বেড়েছে। তবে উৎপাদন দৃশ্যমান হয়নি। চালের দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা প্রবল হয়েছে। দাম নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব বাস্তবায়নের ওপর জোর দেয়া হবে। মূলত জিনিসপত্রের দাম না বাড়াতে পারে সে জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে হবে। এছাড়া বর্তমান পুঁজিবাজার স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। তাই নতুন মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজারের বিষয়ে কিছু না রাখার পক্ষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, মুদ্রানীতি প্রণয়ন নিয়েই আপাতত তারা ব্যস্ত রয়েছে। চলতি জুলাই মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত মুদ্রানীতিতে বিভিন্ন ধরণের সংযোজন বিয়োজন হবে। এর পরে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহের যে কোনোদিন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে। এতে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হয়েছে।

মুদ্রানীতির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. বিরূপাক্ষ পাল বলেন, আমাদের বিনিয়োগবান্ধব ও প্রবৃদ্ধিসহায়ক মুদ্রানীতি প্রয়োজন। সরকারি খাতে বিনিয়োগ হলেও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। এছাড়া ব্যাংকিং খাতে যে তারল্য রয়েছে, বিনিয়োগ পরিস্থিতি যদি চাঙা করা না যায় তাহলে তা অলস পড়ে থাকবে।

প্রসঙ্গত, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি বছর দুই বার মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে। ছয় মাস অন্তর এ মুদ্রানীতি একটি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাইয়ে এবং অন্যটি জানুয়ারিতে প্রকাশিত হয়।

দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে পরবর্তী ছয় মাসে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

"