শিল্প খাতের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা কারিকুলাম চান ব্যবসায়ীরা

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সৃষ্ট বেকারত্বের সংকট উত্তরণে শিল্প খাতের চাহিদামাফিক শিক্ষা কারিকুলাম যুগোপযোগী করার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

গতকাল ডিসিসিআই আয়োজিত ‘কোভিড-১৯ পরবর্তী বাংলাদেশের শিল্প খাতের প্রস্তুতি : বিনিয়োগ ও দক্ষতা’ বিষয়ক ওয়েবিনার সেমিনারে সংগঠনের নেতারা এই আহ্বান জানান। ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. শাখাওয়াত আলী, ডিসিসিআই সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শহীদুল আলম, বাংলাদেশ-ফিলিপাইন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আকবর হাকিম, কম্পিউটার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার আতিক-ই-রাব্বানী, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য এম এ রাজ্জাক, ডিসিসিআই জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম এ মবিন ও সহসভাপতি মোহাম্মদ বাশিরউদ্দিন প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিজনেস ইন্টিলিজেন্স লিমিটেডের উদ্যোক্তা শাকিব কোরেশি।

ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ তার বক্তব্যে বলেন, কোভিড-১৯ অতি মহামারির কারণে সারা বিশে^ অর্থনৈতিক কার্যক্রম বিপর্যস্ত হয়েছে। পুঁজির স্বল্পতা ও বাজার সংকোচনের কারণে রফতানিমুখী শিল্প, এসএমই খাত এবং অনানুষ্ঠানিক খাতে বেকারত্ব তৈরি হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত শ্রম শক্তি থাকা সত্ত্বেও আমাদের দক্ষ শ্রমিকের এখনো যথেষ্ট অভাব রয়ে গেছে।

তিনি কোভিড সৃষ্ট সংকট উত্তরণ ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে শিক্ষা কারিকুলামের সংস্কার বিশেষ করে শিল্প খাতে চাহিদামাফিক শিক্ষাব্যবস্থার যুগোপযোগীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ স্থানান্তরের সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য স্থানীয় অবকাঠামো খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টিতে প্রয়েজনীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু, প্রবাস থেকে ফেরত আসা কর্মী এবং স্থানীয় শিল্পখাত থেকে কর্ম হারানো শ্রমিকদের শিল্পখাতে পুনরায় ফিরিয়ে আনার জন্য সহযোগিতা প্রদান এবং প্রণোদনা প্যাকেজ হতে এসএমই উদ্যোক্তাদের সহজে ঋণ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, কোভিড পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরো বাড়ানো জরুরি। তিনি জানান, এরই মধ্যে সরকারি পলিটেকনিক্যাল কলেজে ভর্তির জন্য বয়সের যে প্রতিবন্ধকতা ছিল তা তুলে দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে নতুন গ্র্যাজুয়েট এবং বিদেশ ফেরত কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন করা সম্ভব হবে। উপমন্ত্রী বলেন, দেশের বেসরকারি খাত ও বিশ^বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় আরো বাড়ানোর প্রয়োজন, যার মাধ্যমে শিল্প খাতের চাহিদামাফিক শিক্ষাকার্যক্রম চালু এবং দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ে অধীনে পরিচালিত কলেজগুলোয় প্রায় ২৮ লাখ শিক্ষার্থী আছে, কিন্তু আমাদের শিল্পখাত তাদের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারছে না, এক্ষেত্রে তিনি নতুন গ্র্যাজুয়েটদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিদেশ ফেরত কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের প্রস্তাব করেন।

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে আমাদের শ্রমিকের দক্ষতার অভাব পূরণে ‘স্কিল ম্যাপিং’ নিয়ে কাজ করছে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, দেশের শিল্পখাত পরিচালানোর মতো প্রয়োজনীয় দক্ষ মানবসম্পদ না থাকায় প্রতিনিয়ত বিদেশি নাগরিকদের নিয়োগকে অনুমতি দিতে হয় এবং এ অবস্থা উত্তরণে আমাদের শিক্ষা কারিকুলামকে শিল্পমুখী ও যুগোপযোগী করার কোন বিকল্প নেই। তিনি জানান, কোভিড পরবর্তী সময়ে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের কারখানা চীন হতে অন্যত্র স্থানান্তরের পরিকল্পনা করেছে, এমতাবস্থায় সেসব প্রতিষ্ঠানের কারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তরের জন্য বিডার পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, বিডা ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে বর্তমানে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ১৮টি সেবা প্রদান করছে এবং আরো ১০টি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের মাধ্যমে ৫২টি সেবা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানের অন্য বক্তারা করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদার ও ডিজিটাল প্ল্যাটফরমকে আরো বেশি করে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

 

"