‘রফতানি প্রবৃদ্ধি কমার জন্য ব্যবসায়ীরাও দোষী’

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

তৈরি পোশাকশিল্পে রফতানি প্রবৃদ্ধি কমার জন্য ‘আন্ডার কাট’ মূল্যের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরাও দোষী বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, আমরা নানাবিধ সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছি। এনবিআর চেয়ারম্যান ও অর্থসচিব সমস্যাগুলোর বিষয়ে শুনেছেন। সে সমস্যাগুলো সমাধানে তারা কাজ করবেন। আমাদের রেডিমেট গার্মেন্টের ক্ষেত্রে যে নেগেটিভ গ্রোথ (নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি) সেটা কীভাবে, সেটার গ্রোথ যাতে বাড়ে সেজন্য নেতাদের সাজেশন দিয়েছেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে তারা কাজ করবেন। কিছু সমস্যা আমাদের হয় ক্লিয়ারেন্সের জন্য, জাহাজীকরণের জন্য অনেক সময় লাগে, বন্দরে দীর্ঘসময় থাকে। এ ছাড়াও অনেক কারণ রয়েছে। এসব ব্যাপারে কথা হয়েছে বলে জানান তিনি।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে পোশাক শিল্পের বিদ্যমান সমস্যাদি নিয়ে আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। পোশাক খাতে নেতিবাচক রফতানি প্রবৃদ্ধি গত আগস্টে ১১ দশমিক ৪৬ শতাংশ, সেপ্টেম্বর ৪ দশমিক ৭০ শতাংশ ও অক্টোবরে ১৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন ব্যবসায়ী নেতারা। সভায় অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দিন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান (এনবিআর) মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হকসহ পোশাক শিল্পের ব্যবসায়ী নেতা ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তবে চূড়ান্ত কথা সবগুলোই কনসিডারেশনে নিয়ে এ ব্যাপারে কাজ করে আমরা ব্যবস্থা নেব। মূলত আলোচনা হয়েছে রেডিমেট গার্মেন্টের গত তিন মাসে যে নেগেটিভ গ্রোথ সেটি কীভাবে ফিরে আসতে পারি।

গত তিন মাস ধরে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির কথা বলেছেন। কত দিনের মধ্যে তা পজিটিভ হতে পারেÑ এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এটা কম্পেটিটিভ বায়ারদের ইচ্ছা, আমরা নিজেরা প্রাইসের কারণে কম্পেটিটিভনেস (প্রতিযোগিতা) হারাচ্ছি। সেটার জন্য সবদিকে চেষ্টা করতে হবে। ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে যে সাহায্যগুলো চেয়েছে সেগুলো কনসিডারেশনে নিলে কম্পেটিটিভনেস বাড়বে বলে আমরা মনে করি।

রফতানি কমার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের কোনো সমস্যা আছে কি নাÑ এ বিষয়ে টিপু মুনশি বলেন, একটা সমস্যা ব্যবসায়ীদের আছে, সেটা বলি, সেটা ব্যবসায়ীদের দোষ। তারা নিজেরা নিজেরা আন্ডার কাট (দাম কমিয়ে) করে প্রাইসটা এমন অবস্থায় নিচ্ছে যে দামও পাচ্ছেন না। প্রাইসের ওপর এর প্রভাব পড়ছে, এটা সত্যি কথা। সেই জিনিসটা আমরা বরাবরই বলছি, অনেক দিন ধরেই বলছি। আমি নিজেও ব্যবসায়ী, এই ব্যাপারে আমরা জানি। অনেক সময় দেখা যায়, কাজ পাওয়ার জন্য প্রাইসটা তারা (ব্যবসায়ীরা) কমিয়ে দিচ্ছে। এটার প্রভাব পড়ছে টোটাল রফতানির অ্যামাউন্টের ওপর। সেটার চেয়েও বড় কথা আমাদের কম্পেটিটিভনেস বাড়ানোর জন্য পাশাপাশি সুবিধাগুলো দরকার বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ৭ থেকে ১০ দিন লেগে যায় একটা মাল ক্লিয়ার করতে, কোনো বায়ার যদি দেখে শিডিউল টাইম থেকে আমাদের ২০ থেকে ২৫ দিন বেশি লাগছে, সে তো পরবর্তী সময় আর আমাকে দেবে না। এসব কারণে অনেক ফ্যাক্টরিকে বিমানে মাল পাঠাতে হয়। একবারে মাল পাঠাতে সে বছরের সব প্রফিট চলে যাবে। সময়ের ব্যাপার, সরকার বিবেচনায় নেবেন। ফ্যাক্টরিগুলোর কাছে আবেদন আমরা নিজেরা আন্ডার কাট না করে আমাদের ব্র্যান্ডটা একটু ভালো করা দরকার। বাজারে গ্লোবাল পরিচিতি বাড়ানো দরকার। কোয়ালিটির ব্যাপারে অ্যাওয়ারনেস বাড়ানো দরকার। তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা আশাবাদী। সামনের দিনগুলোতে হয়তো ইমপ্রুভ করবে।

স্থানীয় পর্যায়ে পোশাক রফতানির মূল্য সংযোজনের ওপর (রফতানি মূল্যের ২৫ শতাংশ) ডলার প্রতি অতিরিক্ত পাঁচ টাকা বিনিময় হার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ডলারের মূল্যের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি নাÑ জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ডলারের যে প্রাইস আছে সেটা নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। সেটার ব্যাপারে কী করা যায় আমাদের ব্যাংকগুলোর ডলার কেনা এবং বিক্রির মধ্যে পার্থক্য রয়েছেন, সেটাও আমাদের ব্যবসায়ী নেতাদের তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, ব্যাংক ইন্টারেস্ট একটা বড় ফ্যাক্টর হয়ে গেছে, স্পেশালি প্রাইভেট ব্যাংকগুলোতে। গত মঙ্গলবার একনেক মিটিংয়ে বিশাল আলোচনা হয়েছে যে, এত ইন্টারেস্ট দিয়ে পারা যায় না। সে ক্ষেত্রে আলোচনা হয়েছে, কেমন করে সেটা কমানো যায়। ১২ থেকে ১৪ শতাংশ হারে বেসরকারি ব্যাংকগুলো ইন্টারেস্ট নেয়। সেটা কীভাবে কমানো যায়। আরেকটা জিনিস আলোচনা হয়েছে, রেভিনিউ কালেকশন দরকার দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য। ব্যবসায়ী নেতাদের সাজেস্ট করেছেন, ট্যাক্স যেটা তোলা হয় এর পরিধি যেন বাড়ানো যায়। যাতে আরো বেশি সংখ্যক মানুষ যাদের সামর্থ্য আছে ট্যাক্স দেওয়ার তাদের আওতায় আনা। সেটাকে কাভার করলে রেগুলার যারা ট্যাক্স দেন তাদের ওপর হয়তো চাপ কিছুটা কমবে। এসব ব্যাপারে কথা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থ সচিব বলেছেন, তিনি ইমিডিয়েটলি কয়েকটি ব্যাপার দেখবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে। অন্য বিষয়গুলোর বিষয়েও এনবিআর চেয়ারম্যান বলেছেন। একটা সাজেশন তিনি দিয়েছেন, এসব ছোটখাটো সমস্যা যখনই আসবে আপনারা আমার কাছে আসেন, অন দ্য স্পট সেগুলো সমাধান করে দেওয়া হবে।

"