শতভাগ রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান

গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতে ভ্যাট মওকুফ

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

শতভাগ রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান বা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের প্রাকৃতিক গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ বিলে কোনো মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট দিতে হবে না। তবে ভ্যাট অব?্যাহতি সুবিধা পেতে হলে পূরণ করতে হবে ছয়টি শর্ত। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি হয়েছে, যা গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির মূসক আইন ও বিধি বিভাগের দ্বিতীয় সচিব মো. তারেক হাসানের সই করা আদেশে বলা হয়েছে, ভ্যাট নিবন্ধিত শতভাগ সরাসরি রফতানিকারক, শতভাগ প্রচ্ছন্ন রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ও ইপিজেডে অবস্থিত প্রতিষ্ঠান মূসক/ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা পাবে। এ সুবিধা পেতে হলে নিম্নরূপ শর্ত প্রতিপালন করতে হবে। এসব শর্ত হলোÑ কারখানা বা উৎপাদনস্থলে রফতানিকাজে ব্যবহৃত মিটার নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারের কাছে আবেদন করতে হবে। যে মাসের বিল থেকে আলোচ্য অব্যাহতি সুবিধা গ্রহণ করতে আগ্রহী, সে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদনপ্রাপ্তির পর কমিশনার সরেজমিনে গিয়ে রফতানি কার্যক্রম পরীক্ষা করে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর ও দাখিলপত্র যাচাই করে সন্তুষ্ট হলে অব্যাহতি কার্যকর হওয়ার আদেশ জারি করবেন। যে মাসের বিলে অব্যাহতি সুবিধা প্রযোজ্য হবে, সেই মাসের নাম আদেশে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। যে ক্ষেত্রে সেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে বিল ইস্যু না করে ইপিজেড কর্তৃপক্ষের নামে বিল ইস্যু করে, সে ক্ষেত্রে ইপিজেড কর্তৃপক্ষ সব প্রতিষ্ঠানের সেবার ব্যবহার ও বিলের পরিমাণ উল্লেখ করে প্রত্যয়নপত্র প্রদান করবে। কমিশনার ওই প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের রফতানি সন্তোষজনক হলে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দেওয়া হবে। তবে ইপিজেড কর্তৃপক্ষ বা অন্য কোনো অফিসে ব্যবহার করা বিলের ওপর ভ্যাট অব্যাহতি হবে না। কোনো ক্ষেত্রেই রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের কারখানা বা উৎপাদনস্থল ছাড়া অন্য কোনো অফিসে ব্যবহৃত সেবার ভ্যাট অব্যাহতি প্রযোজ্য হবে না। আদেশে প্রদত্ত শর্তে আরো বলা হয়, একই মিটার যদি একাধিক প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে, যার প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান রফতানি পণ্য উৎপাদান করে না, তাহলে বিদ্যুৎ বিলের ওপর প্রযোজ্য মূসক পরিশোধ করতে হবে অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে মূসক অব্যাহতি প্রযোজ্য হবে না।

এনবিআর কর্তৃক আদেশে আরো বলা হয়, বিভাগীয় কর্মকর্তা, অব্যাহতি সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করবেন। বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন বিষয়ে বা অন্য কোনো বিষয়ে অসামঞ্জস্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিস ও শুনানি করা হবে। বিভাগীয় কর্মকর্তা কমিশনারের কাছে অব্যাহতি সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করলে কমিশনার শুনানি গ্রহণ করে তা বাতিলও করতে পারবেন। বন্দর, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স, ক্লিয়ারিং ও ফরোয়ার্ডিং সংস্থা, বিমা কোম্পানি ও শিপিং এজেন্ট সেবার ওপর প্রযোজ্য মূসক অব্যাহতি গ্রহণের ক্ষেত্রে আমদানি বা শুল্ক স্টেশন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরীক্ষান্তে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে কমিশনার মূসক অব্যাহতির সুবিধা দেবেন।

"