বিদেশি ঋণ টাকায় পরিশোধের প্রস্তাব এসেছে : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

বাণিজ্য ডেস্ক

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বৈদেশিক উৎস থেকে নেওয়া ঋণ টাকায় পরিশোধের জন্য প্রস্তাব এসেছে। এ ক্ষেত্রে এই দুটি ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কেননা, ডলারের বিপরীতে টাকার মান সব সময় ওঠানামা করে। এ ক্ষেত্রে টাকার মূল্যমান নির্দিষ্ট রেখে ডলারের বিপরীতে নেওয়া ঋণ টাকায় পরিশোধ করা হলে বাংলাদেশ লাভবান হবে বলে জানান তিনি। গত শনিবার ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিশ্বের দুটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক সিটি ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল ও এইচএসবিসি ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

বৈঠক সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক উৎস থেকে নেওয়া ঋণগুলো এখন থেকে টাকায় পরিশোধের জন্য প্রস্তাব এসেছে। এ ক্ষেত্রে এই দুটি ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কেননা, ডলারের বিপরীতে টাকার মান সব সময় ওঠানামা করে। এ ক্ষেত্রে টাকার মূল্যমান নির্দিষ্ট রেখে ডলারের বিপরীতে নেওয়া ঋণ টাকায় পরিশোধ করা হলে বাংলাদেশ লাভবান হবে। ব্যাংক দুটি বাংলাদেশে পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেটে বিনিয়োগ বাড়াতে চায়। এ-সংক্রান্ত দুটি প্রস্তাব আলাদাভাবে অর্থমন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে। এইচএসবিসি মালয়েশিয়ায় জনপ্রিয় সুকুব বন্ড ইস্যু করতে চায়।

অন্যদিকে, একই দিন সন্ধ্যায় ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীবিষয়ক একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ শেফার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ, অর্থসচিব আবদুর রউফ তালুকদারসহ সংশ্লিষ্টরা।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে আশ্রয় দেওয়া হলেও এখন তার উচ্চমূল্য দিতে হচ্ছে। কক্সবাজারসহ ওই এলাকার পুরো পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এতে আমাদের সামাজিকভাবে ও জলবায়ুগত চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। আমাদের সামাজিক বন্ধনসহ যেসব ক্ষতি হচ্ছে তা ডলার বা টাকার অঙ্কে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। তাই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে, এটাই আমাদের প্রধান চাওয়া।

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চাওয়া হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, ‘আমরা বিশ্বাস করি বিশ্বব্যাংক বিশ্ববাসীর সঙ্গে আলাপ করে একটা পজেটিভ সিদ্ধান্ত নেবে। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বিশ্বব্যাংক বা অন্য কোনো উন্নয়ন সহযোগীর আর্থিক সহায়তা নিয়ে আমরা ভাবছি না। আমরা শুধু ভাবছি তাদের প্রত্যাবাসন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। আশা করি বিশ্বব্যাংক সবার সঙ্গে আলোচনা করে আমাদের একটা সুন্দর সমাধানের পথ দেখাবে। এরই মধ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তি হয়েছে। কিন্তু সেখানে কোনো টাইমলাইন দেওয়া হয়নি। আশা করা হচ্ছে দ্রুত টাইমলাইন আসবে।’

"