বন্ডের মাধ্যমে পরিশোধ হচ্ছে হানিফ ফ্লাইওভারের দায়

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী (মেয়র মোহাম্মদ হানিফ) ফ্লাইওভার নির্মাণের ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাওনা আসলের দায় সরকার নেওয়ার মাধ্যমে বড় ধরনের সুবিধা নিলো ফ্লাইওভার নির্মাতা সংস্থা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্থে নির্মাণ করা হানিফ ফ্লাইওভার বাস্তবায়নে ব্যয়িত অতিরিক্ত কাজের ব্যয় বাবদ ১ হাজার ৪৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকার পাওনা আসলের বিপরীতে সরকারি বন্ডের মাধ্যমে শোধের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ট্রেজারি ও ঋণ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের উপসচিব মো. ফিরোজ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বন্ড শর্তাবলী মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার নির্মাণে ওরিয়ন গ্রুপকে অতিরিক্ত কাজের ব্যয় বাবদ পাওনা আসলের বিপরীতে ১ হাজার ৪৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকার দায় সরকার গ্রহণ করে ব্যাংকগুলোর অনুকূলে সাত বছর মেয়াদি বিশেষ ট্রেজারি বন্ড ইস্যু করা হয়েছে। পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত এবং একটি বেসরকারি ব্যাংক ও একটি সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের ৩১৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংকের ৩৫১ কোটি ৭২ লাখ টাকা, জনতা ব্যাংকের ৩৮৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ও অগ্রণী ব্যাংকের ৩১৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এছাড়া বাকি অর্থের বিপরীতে রয়েছে সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ৩১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ৩১ কোটি ৯৩ লাখ টাকার বন্ড ইস্যু করা হবে। প্রত্যেক বন্ডের সুদের হার হবে ৫ শতাংশ।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর বন্ড ইস্যুর বিষয়ে চতুর্থপক্ষীয় একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এই চার পক্ষের মধ্যে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, অর্থ বিভাগ, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ওরিয়ন ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান ওবায়েদুল করিম।

এ চুক্তির ফলে ওরিয়ন গ্রুপ হানিফ ফ্লাইওভারের নির্মাণ ব্যয়ের ১ হাজার ৪৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং সুদ বাবদ ৫৫৪ কোটি টাকাÑ মোট ১ হাজার ৯৯২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা পাচ্ছে, যা বন্ডের মাধ্যমে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে সরকার। ফলে সরকার ওরিয়ন গ্রুপের ঋণের টাকা বন্ডের মাধ্যমে পরিশোধ করবে। ফলে ব্যাংকগুলোর কাছে ওরিয়ন গ্রুপের আর কোনো দায় থাকবে না। তবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বন্ড নেওয়ার আগে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের বোর্ডসভায় এ বিষয়ে অনুমোদন নিতে হবে।

 

"