দুর্ঘটনা এড়াতে রাসায়নিক গুদাম নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্ঘটনা এড়াতে অবশেষে রাসায়নিক গুদাম নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে শিল্প মন্ত্রণালয় ‘রাসায়নিক গুদাম নির্মাণ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। সেখানে ৫৩টি রাসায়নিক গুদাম নির্মাণ করা হবে। এ জন্য ব্যয় হবে প্রায় ৯১ কোটি ৭৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। আজ প্রকল্পটি কোনো দরপত্র ছাড়া সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের একটি প্রস্তাবে অনুমোদনের জন্য অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন কারখানার বিশেষ করে টেক্সটাইল, ডাইং, লেদার, ফার্মাসিউটিক্যালস, ল্যাবরেটরির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক দ্রব্য বিদেশ থেকে আমদানি করে মজুদ রাখার প্রয়োজন হয়। অনেক দিন আগে থেকেই পুরান ঢাকায় রাসায়নিক পদার্থের কারখানা এবং রাসায়নিক পদার্থ মজুদ রাখা ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তবে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় রাসায়নিক পদার্থ মজুদের জন্য গুদাম থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক। যার জন্য পুরান ঢাকায় ২০১০ ও ২০১৯ সালে দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, যেখানে অনেক প্রাণহানি ও বিপুল পরিমাণ সম্পদ বিনষ্ট হয়। এ রকম অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে পুরান ঢাকার সব রাসয়নিক পদার্থ মজুদের গুদাম ও কারখানা নিরাপদ স্থানে স্থায়ীভাবে স্থানান্তরের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিসিক কর্তৃক মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে বৈধ কেমিক্যাল কারখানা ও কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের জন্য কারখানা নির্মাণ ও রাসায়নিক দ্রব্যাদি মজুদ ও সংরক্ষণের জন্য পৃথক একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২২ মেয়াদে ১ হাজার ৬১৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে বাস্তবায়ন করবে সরকার। সূত্র জানায়, প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ ও অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করতে বেশ সময়ের প্রয়োজন বিধায় অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যমান বৈধ ব্যবসায়ীদের বিপজ্জনক কেমিক্যাল সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণের জন্য বিএসইসির মালিকানাধীন গাজীপুরের টঙ্গী শিল্প এলাকার কাঁঠালদিয়া মৌজায় ৬ একর জমিতে অস্থায়ী গুদাম নির্মাণের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক ‘রাসায়নিব গুদাম নির্মাণ’ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।

জানা যায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শ্রেণিভিত্তিক (তরল, সলিড, দাহ্য, অদাহ্য, বিস্ফোরক, ক্ষয়কারক, লিকুইফাইড গ্যাস) রাসায়নিক দ্রব্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। পুরাতন ঢাকায় মজুদকৃত রাসায়নিক দ্রব্যাদি দ্রুত অন্য জায়গায় স্থানান্তরের মাধ্যমে ওই এলাকার জনগণের মাঝে আতঙ্ক নিরসনে এবং ওই এলাকায় জীবনযাপন ও ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ রক্ষার্থে প্রস্তাবিত রাসায়নিক গুদাম নির্মাণ করা একান্ত প্রয়োজন।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটি জাতীয় অতি জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ বিধায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৫৩টি কেমিক্যাল গুদাম, তিনটি ভবনসহ আনুষঙ্গিক কাজ ডিপিএম এ বাস্তবায়নের অনুমোদন আছে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (পিপিএ)-২০০৬-এর ধারা ৬৮(১) এ রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে ডিপিএম এ বাস্তবায়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা থাকায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হবে।

"