রাজস্ব আয় বাড়াতে চালু হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় চালান পদ্ধতি

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজস্ব বাড়াতে দেশের ৫৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে সরকার চালু করতে যাচ্ছে ‘স্বয়ংক্রিয় চালান’ পদ্ধতি। চালানের মাধ্যমে সরকারের কোষাগারে অর্থ জমা দেওয়ার পরিমাণ বাড়াতে এই ব্যবস্থাটি চালু করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ‘ট্রেজারি চালান ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ধারণা বা ই-চালান হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রাপ্তি বাতায়ন। সরকারের রাজস্ব আহরণ ও হিসাবের সঙ্গতিসাধন, জনগণের হয়রানি লাঘব, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা সর্বোপরি সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সরকারি প্রাপ্তি জমাদানের জন্য অর্থবিভাগের উদ্যোগে ই-চালান সরকারের প্রাপ্তি বাতায়ন নামের এই অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফরমটি ২০১৮ সালের ২৫ মার্চ থেকে চালু হয়েছে। সরকারের কর ও বিভিন্ন সেবার ফি ব্যাংকে জমা প্রদানের বিদ্যমান পদ্ধতির পাশাপাশি এই পদ্ধতিতে অনলাইনে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকারি সব প্রাপ্তি জমা দেওয়ার অনলাইন প্ল্যাটফরম হিসেবে এই পদ্ধতি বিবেচিত হবে এবং এটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাতীয় পেমেন্ট গেটওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে। প্রাথমিকভাবে সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে পাসপোর্ট ফি, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ফি ও জাতীয় পরিচয়পত্র ফি জমা প্রদানের সুবিধা সরকারের প্রাপ্তি বাতায়নে চালু করা হয়েছে। অন্যান্য সরকারি প্রাপ্তির জন্য অর্থ জমাদানের সুবিধা পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে বলে এর আগে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সোনালী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকও সরকারি চালান লেনদেন কার্যকর করা হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমে সোনালী ব্যাংকসহ সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঢাকা মহানগরীর শাখাগুলোতে এ ব্যবস্থাটি চালু হবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বাস্তবায়ন হবে। বর্তমান ব্যবস্থায় ভুয়া চালান ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার নজিরও রয়েছে। কিন্তু নতুন ব্যবস্থা চালু হলে সরকারের বিপুল রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ হবে। অর্থবিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘ট্রেজারি চালান ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ ব্যবহার করে যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ট্রেজারি চালানের অর্থ গ্রহণ করা যাবে। যাদের সরকারি ফি, কর এবং এমনকি জরিমানা জমা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে তারা সরকারের সবচেয়ে প্রাচীনতম পদ্ধতির মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সেবাপ্রত্যাশী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নগদ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে চালান রসিদ প্রদান করবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চেকের অর্থ গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে সিøপ প্রদান করে পরবর্তী সময়ে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে চালান রসিদ প্রদান করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই সিস্টেম থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে দৈনিকভিত্তিতে সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান অ্যাকাউন্ট ডেবিট করে ট্রেজারি চালান বাবদ জমাকৃত অর্থ সরকারি হিসেবে ক্রেডিট করবে এবং ক্রেডিট হিসেবে মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় বরাবর পাঠাবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সেবাপ্রত্যাশী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া চালান রসিদ অনলাইন চালান ভেরিফিকেশন সাইটে যাচাই করে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করবে।

এ ক্ষেত্রে চালান যাচাইয়ের সেবা দেওয়া সরকারি অফিসকে ব্যবহার চালান রসিদটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। যাতে রসিদটি আবার ব্যবহারের কোনো সুযোগ না থাকে। অনলাইন চালান ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে প্রয়োজনে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে হেল্পডেক্সে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ করা যাবে।

 

"