চামড়া কিনতে ব্যাংকঋণ মিলবে ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

কোরবানির পশুর কাঁচাচামড়া কিনতে গতবারের চেয়ে এবার বেশি টাকা দিচ্ছে ব্যাংক। আগের ঋণ নবায়নসহ এবার প্রায় ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংক। এর বাইরে বেসরকারি খাতের উত্তরা, ন্যাশনালসহ আরো কয়েকটি ব্যাংক চামড়া খাতে ঋণ দিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এর পরিমাণ জানা যায়নি। গত বছর ব্যাংকগুলো ব্যবসায়ীদের কাঁচাচামড়া কিনতে ৬০১ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল।

ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীরা জানান, যারা গত বছরের ঋণের টাকা ফেরত দিয়েছেন, কেবল তাদেরই ঋণ দেওয়া হয়েছে। গত বছরের মতো এবারও প্রতিষ্ঠিত ট্যানারির মালিকরা ঋণ পাচ্ছেন। নতুন-পুরোনো প্রায় ২৪টি প্রতিষ্ঠান এ ঋণ পাচ্ছে। গত বছর ৪২টি ট্যানারি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়েছিল ব্যাংকগুলো। অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, চামড়া ব্যবসায়ীদের সুদিন আসছে। সাভারে চামড়া শিল্প নগরীতে সিইটিপি (কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার) চালু হতে যাচ্ছে। এ কারণে অগ্রণী ব্যাংক এ বছর কাঁচাচামড়া কিনতে গতবারের চেয়ে বেশি টাকা দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এ বছর ব্যবসায়ীরা ১৩০ কোটি টাকা ঋণ পাবেন। গত বছর কাঁচাচামড়া কিনতে ১০৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল অগ্রণী ব্যাংক।

তবে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক কাঁচাচামড়া কিনতে এ বছর কোনো ঋণ দিচ্ছে না। বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আলম বলেন, আমাদের ব্যাংকে চামড়া কেনার গ্রাহক একজন। তিনি আগের নেওয়া টাকা ফেরত দিতে পারেননি, এ কারণে আমরা এ বছর নতুন করে কাঁচাচামড়া কিনতে কোনো ঋণ দিচ্ছি না।

এদিকে এবারের কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ হয়েছে। গত মঙ্গলবার সচিবালয়ের মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি নির্ধারিত দাম ঘোষণা করেন। চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে এই দাম নির্ধারণ করা হয়। এ সময় মন্ত্রী জানান, এবার গরুর চামড়ার দাম ঢাকায় প্রতি বর্গফুট হবে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। খাসির চামড়ার দাম হবে সারা দেশে ১৮ থেকে ২০ টাকা। বকরির চামড়ার দাম ১৩ থেকে ১৫ টাকা। এবার পশুর চামড়া কিনতে সবচেয়ে বেশি ঋণ দিচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক। ব্যাংকটি আগের ঋণ নবায়নসহ প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার ঋণ দিচ্ছে।

জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুছ ছালাম আজাদ এ প্রসঙ্গে বলেন, এবার কাঁচাচামড়া কিনতে নতুনভাবে ২০০ কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হবে। এছাড়া ঋণ নবায়ন হবে আরো ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

সব মিলিয়ে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হবে। নতুন-পুরোনো ১০টি প্রতিষ্ঠানকে এই ঋণ দেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে রূপালী ব্যাংক। চারটি প্রতিষ্ঠানকে এই ঋণ দেওয়া হচ্ছে। রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান জানান, গতবার পশুর চামড়া কিনতে ১৭৫ কোটি টাকার মতো ঋণ দিয়েছিল রূপালী ব্যাংক। এবার চামড়া খাতে ২৫০ কোটি টাকার মতো ঋণ দেওয়া হবে। সোনালী ব্যাংক গতবারের মতো এবারও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৭০ কোটি টাকার ঋণ দিচ্ছে। এর মধ্যে আমিন ট্যানারিকে ২৫ কোটি, কালাম ব্রাদার্সকে ২০ কোটি ও ভুলুয়া ট্যানারিকে দেওয়া হচ্ছে ২৫ কোটি টাকার ঋণ।

জানা যায়, ঈদুল আজহায় আড়তদারদের মাধ্যমে প্রচুর চামড়া সংগ্রহ করেন ট্যানারি মালিকরা। ফলে তাদের বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হয়। তাদের এ চাহিদা পূরণ করে ব্যাংকগুলো।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী কম সুদেই এসব ঋণ দেওয়া হয়। মাত্র ৭ শতাংশ সুদে এই ঋণ নিয়ে কাঁচাচামড়া কেনেন ব্যবসায়ীরা।

চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, বছরে যে পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ করা হয়, তার অর্ধেকেরও বেশি আসে কোরবানির ঈদে। এ সময় সংগৃহীত চামড়ার মানও ভালো হয়।

 

 

"