রেমিট্যান্সের পালে ঈদের হাওয়া

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বেড়েছে। জুনের তুলনায় জুলাই মাসে ২৩ কোটি ডলার বেশি পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। জুলাই মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৬০ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বল?া হয়েছে, জুন মাসে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৩৭ কোটি ডলার, জুলাই শেষে তা ২৩ কোটি ডলার বেড়ে ১৬০ কোটি ডলার হয়েছে। ঈদের আগে প্রবাসীরা আত্মীয়-স্বজনের কাছে অর্থ একটু বেশিই পাঠিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে ব্যাংকিং চ্যানেলে বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২৯ কোটি ডলার বেশি। মে মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১৭৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার। রেমিট্যান্সের এই পরিমাণ ছিল একক মাস হিসেবে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। পরের মাস জুনে রেমিট্যান্স কিছুটা কমে এসেছিল ১৩৬ কোটি ৪২ লাখ। তবে জুলাইতে সেটি আবার বেড়ে হয়েছে ১৫৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে ১ হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে। যা দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ। আগের ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আসে ১ হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার। এই হিসাবে গত অর্থবছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে সাড়ে ৯ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বৃদ্ধি, হুন্ডি প্রতিরোধসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে বৈধপথে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ বাড়ছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের শুরু থেকে বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

সরকার বৈধপথে দেশে প্রবাসী আয় আনার উদ্যোগ নিয়েছে। তার আলোকে চলতি অর্থবছর থেকে ১ হাজার ডলার বা তার বেশি পরিমাণ অর্থ পাঠালে ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার, যা ১ জুলাই থেকেই এটি কার্যকর হবে। প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা সবচেয়ে বেশি আহরিত হয়েছে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। এ ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ১১৮ কোটি ২৮ লাখ ডলার। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৭ কোটি ৭৭ লাখ, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২ কোটি ৩৬ লাখ এবং বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। এদিকে একক ব্যাংক হিসেবে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে। এ ব্যাংকটির মাধ্যমে ৩০ কোটি ৭৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। রেমিট্যান্স আহরণে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড। এ ব্যাংকটির মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ১৬ কোটি ৭১ লাখ মার্কিন ডলার। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ১১ কোটি ১২ লাখ ডলার, জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে ৭ কোটি ৭৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, ঈদ উৎসবে মানুষের বাড়তি খরচ হয়। সামনে ঈদ, অনেকে কোরবানির পশু কিনবে তাই বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে হুন্ডিতে রেমিট্যান্স আসা কমেছে। এসব কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

"