রফতানি খাতে ভর্তুকির ১১২৫ কোটি টাকা ছাড়

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রফতানি বাণিজ্যকে উৎসাহ দিতে প্রতি অর্থবছরই রফতানির বিপরীতে ভর্তুকি বা নগদ সহায়তার ঘোষণা দেয় সরকার। চলতি অর্থবছরের মোট বরাদ্দ থেকে এ বাবদ চতুর্থ কিস্তির ১ হাজার ১২৫ কোটি টাকা ছাড় দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মহানিয়ন্ত্রকের ডেবিট অথোরিটি জারিসহ সরকারের অন্য দাফতরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে এ সুবিধা নিতে পারবেন রফতানিকারকরা।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে ভর্তুকির অর্থ ছাড়ের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এতে রফতানিমুখী দেশি বস্ত্র, হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ, চামড়াজাত দ্রব্য, পাট ও পাটজাত দ্রব্যসহ অনুমোদিত অন্যান্য খাতে রফতানির বিপরীতে দেওয়া নগদ সহায়তা বা ভর্তুকি পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুকূলে অর্থ ছাড়ের কথা বলা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে অতিরিক্ত ১ শতাংশ নগদ সহায়তা ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু অতিরিক্ত ১ শতাংশ ছাড়ের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে রফতানি ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ এখনো ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকাই ধরা হয়েছে। এর মধ্যে পাটজাত দ্রব্যে ভর্তুকির পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা। বাকি ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে অন্য খাতের জন্য। বরাদ্দের অর্থ থেকে চলতি অর্থবছরে প্রথম কিস্তি বাবদ মোট ছাড়ের পরিমাণ ১ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১২৫ কোটি টাকা রয়েছে পাটজাত দ্রব্য রফতানির জন্য। অন্যান্য দ্রব্য রফতানিতে ভর্তুকি রয়েছে বাকি ১ হাজার কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) হিসাবে এ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুকূলে ছাড় করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, বিভিন্ন রফতানিমুখী খাত ভর্তুকি বা নগদ সহায়তা পাচ্ছে ২ থেকে ২০ শতাংশ হারে। এর মধ্যে দেশি বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হচ্ছে ৪ শতাংশ। বস্ত্র খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে নগদ সহায়তার হার ৪ শতাংশ।

ইউরো অঞ্চলে বস্ত্র খাতের রফতানিকারকদের বিদ্যমান ৪ শতাংশের বাইরে অতিরিক্ত বিশেষ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হচ্ছে আরো ২ শতাংশ। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইইউর বাইরের দেশগুলোয় বস্ত্র খাতের নতুন বাজার সম্প্রসারণে দেওয়া সহায়তার হার ৪ শতাংশ।

শাক-সবজি, ফলমূলের মতো কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ভর্তুকি বা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে ২০ শতাংশ হারে। শস্য ও শাক-সবজির বীজ রফতানির ক্ষেত্রেও সমান হারে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া শতভাগ হালাল মাংস রফতানিতেও ভর্তুকির হার ২০ শতাংশ। হোগলা, খড়, আখের ছোবড়া ইত্যাদি দিয়ে হাতে তৈরি পণ্য রফতানিতে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে ২০ শতাংশ। হাল্কা প্রকৌশল পণ্যের ক্ষেত্রেও এ হার ১৫ শতাংশ। এছাড়া হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ রফতানি খাতে নগদ সহায়তার হার ২ থেকে ১০ শতাংশ।

অন্যদিকে চামড়াজাত দ্রব্য রফতানি খাতে নগদ সহায়তার হার ১৫ শতাংশ। জাহাজ রফতানির ক্ষেত্রে এ হার ১০ শতাংশ। আলু, পেট বোতল-ফ্লেক্স, ফার্নিচার, প্লাস্টিক দ্রব্য রফতানির ক্ষেত্রে নগদ সহায়তার হার যথাক্রমে ২০, ৫, ১৫, ১৫ ও ১০ শতাংশ। এছাড়া বৈচিত্র্যময় পাটজাত পণ্য, পাটজাত চূড়ান্ত পণ্য হেসিয়ান, সেকিং ও সিবিসি এবং পাটজাত সুতার ভর্তুকির হার যথাক্রমে ২০, ১২ ও ৭ শতাংশ। সাভারে চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তরিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে ক্রাস্ট ও ফিনিশড লেদার রফতানির বিপরীতে ভর্তুকির হার ১০ শতাংশ। এছাড়া পাটকাঠি থেকে উৎপাদিত কার্বন রফতানি ভর্তুকির হার ২০ শতাংশ।

এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বিষয়টি নিয়ে বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় নগদ সহায়তা ছাড়ের নির্দেশনাটি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। তবে গত অর্থবছরে পোশাক খাতের জন্য বরাদ্দ নগদ সহায়তার ২ হাজার কোটি টাকা এখনো অমীমাংসিত আছে। এ ছাড়া তিন থেকে চার মাস পর রফতানিকারকরা বাজেটে ঘোষিত অতিরিক্ত ১ শতাংশ নগদ সহায়তার অর্থও দাবি করবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বরাবরের মতো এবারের অর্থ ছাড়ের নির্দেশনায় ৮ ধরনের শর্তজুড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আছে দাবি পরিশোধের পর নিরীক্ষায় প্রাপ্য অর্থের চেয়ে বেশি পরিশোধ করা হয়েছে, এমনটা প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্ট অর্থ আদায়পূর্বক গ্রহীতার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নগদ সহায়তার নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণের শর্তও রয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায়।

 

 

"