বন্ড সুবিধার অপব্যবহার

চার মাসে ১৫৪ কোটি টাকার মামলা

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে কঠোর অবস্থানে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। গত চার মাসে সংস্থাটি ১৫৪ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির মামলা করেছে। এছাড়া ২৮১ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার প্রতিরোধ, রাজস্ব আদায় ও দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের গত মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ৪ মাসে মোট ১০৫টি প্রিভেন্টিভ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের আওতায় রয়েছে বন্ডেড ওয়্যারহাউসে আকস্মিক পরিদর্শন, রাত্রীকালীন টহল, বিশেষ অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা ইত্যাদি। এসব অভিযানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), সিআইডি পুলিশ কাস্টমসকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করেছে। অভিযানে বন্ড সুবিধায় আমদানি পণ্য চোরাই পথে খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৪৭টি পণ্যবাহী যানবাহন আটক, পাঁচটি গুদাম সীলগালাসহ মোট ৭৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আরো জানা গেছে, আটক পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার ফেব্রিক্স, কাগজ, বিওপিপি ফিল্ম, পিপি দানা, ডুপ্লেক্স বোর্ড, আর্ট কার্ড ইত্যাদি। ওই মামলাগুলোতে উদ্ঘাটিত রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ প্রায় ১৫৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এরই মধ্যে ৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এছাড়াও বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় মোট ২৮১টি প্রতিষ্ঠানের বন্ড লাইসেন্স সাসপেন্ডসহ বিন লক করা হয়েছে। চারটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স চূড়ান্ত বাতিল করা হয়েছে। এলাকাভিত্তিক নিবিড় জরিপ ও তদন্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের (মার্চ-জুন) তুলনায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরের শেষ চার মাসে ৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

এদিকে, ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট সূত্রে জানা গেছে, প্রিভেন্টিভ অভিযান পরিচালনায় চলতি বছরের গত ১৮ এপ্রিল রাতে চোরাকারবারিদের অতর্কিত হামলায় কাস্টমস কর্মকর্তাদের আহত করাসহ গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ বিষয়ে ওইদিনই রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেছে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। এছাড়া মামলায় এরই মধ্যে কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতার করে রিমান্ডের আওতায় আনা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলাটি সম্প্রতি ডিবি-দক্ষিণ বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের সহকারী কমিশনার (প্রিভেন্টিভ) আল আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণার সমতুল্য। অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা নিয়মিত বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে অভিযান পরিচালনা করছি। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, এনবিআর বন্ডের অপব্যবহার রোধে সচেষ্ট এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা বন্ডের দুর্নীতি প্রতিরোধে বন্ড কমিশনারেটকে নির্দেশনা দিয়েছে। সেই নির্দেশনা মোতাবেক বন্ড কমিশনারেটগুলো তাদের দায়িত্ব পালন করছে। নিয়মিত খোলা বাজারে বন্ডের অপব্যবহার রোধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে যারা বন্ড সুবিধা নিয়ে সেটার অপব্যবহার করছে তারা দেশের শত্রু। কেননা কোনো সুবিধা নিয়ে সেটার অপব্যবহার করা মানেই হলো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা। এখানে কিছু ব্যবসায়ী সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে।

 

"