রফতানি আয় ছাড়াল ৪০ বিলিয়ন ডলার

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের পণ্য রফতানিতে এসেছে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি। সদ্য সমাপ্ত (২০১৮-১৯) অর্থবছরে ৪ হাজার ৫৩ কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। ইপিবির প্রতিবেদনে সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সব ধরনের পণ্য রফতানিতে বৈদেশিক মুদ্রার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার। সদ্যসমাপ্ত অর্থবছর শেষে আয় এসেছে ৪ হাজার ৫৩ কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের বেশি। এর আগে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রফতানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬৬৬ কোটি ৮১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। সেই তুলনায় গত অর্থবছর শেষে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, একক মাস হিসেবে গত জুনে ২৭৮ কোটি ৪৪ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এটি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুনের চেয়ে ৫ দশমকি ২৭ শতাংশ কম। ওই বছরের জুনে ২৯৩ কোটি ৯৩ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছিল।

জানা যায়, দেশের রফতানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই খাত থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রফতানি আয় এসেছিল ৩ হাজার ৬১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে তৈরি পোশাক খাতে পণ্য রফতানি আয় অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ৪১৩ কোটি ৩২ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এ খাতে প্রবৃদ্ধি প্রায় ১১ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

অন্যদিকে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় বেড়েছে ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। নিট পোশাক রফতানি থেকে এসেছে ১ হাজার ৬৮৮ কোটি ৮৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১১ দশমিক ১৯ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে ওভেন পোশাক রফতানিতে আয় হয়েছে ১ হাজার ৭২৪ কোটি ৪৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার। যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি।

ইপিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের ৩৪ দশমিক ৯২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে কৃষিপণ্য রফতানিতে। এ খাত থেকে আয় এসেছে ৬৭ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রফতানি আয় বেড়েছে ২৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ। গত অর্থবছর শেষে প্লাস্টিক পণ্যে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ২১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এ সময়ে আয় হয়েছে ৯ কোটি ৮৪ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।

এদিকে গত অর্থবছর শেষে হোম টেক্সটাইল খাতে প্রবৃদ্ধি ও লক্ষ্যমাত্রা দুই-ই কমেছে। এ সময় আয় এসেছে ৮৭ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছর শেষে পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি কমেছে। একইসঙ্গে অর্জিত হয়নি লক্ষ্যমাত্রাও। শেষ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় এসেছে ১০২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। এছাড়া চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কম হয়েছে ৯ দশমিক ২৭ শতাংশ। প্রবৃদ্ধিও গত বছরের চেয়ে কমেছে। এ সময়ে আয় হয়েছে ১০৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার।

 

"