শিল্প উন্নয়নে প্রাইভেট ব্যাংকের অবদান অনেক

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেছেন, আমরা যখন প্রথমে ব্যবসা শুরু করি, তখন সরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গেলে ১০ পৃষ্ঠার ফরম পূরণ করে জমা দিতে হতো। সেটা পূরণ করতে গিয়ে আবার ভুল হতো, এভাবে সময় গড়িয়ে যেত কিন্তু আমরা ঋণ পেতাম না। অন্যদিকে সরকার যখন প্রাইভেট ব্যাংকের অনুমোদন দিল, তখন ব্যাংকগুলো আমাদের কারখানায় গিয়ে ঋণ সুবিধা দেওয়ার জন্য বসে থাকত। যেখানে আগে কয়েক মাসেও ঋণ সুবিধা পেতাম না, সেখানে প্রাইভেট ব্যাংক আসার পর এক সপ্তাহে আমরা ঋণ সুবিধা পেয়ে গেছি। তাই শিল্পের অগ্রসরতায় প্রাইভেট ব্যাংকের ব্যাপক অবদান রয়েছে।

গতকাল রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয় হোটেলে দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে চুক্তি সই অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) আওতাধীন আহমেদ বাওয়ানি টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ডেমরা মিলটি এখন থেকে কনসোর্টিয়াম অব তানজিনা ফ্যাশন লিমিটেডের মাধ্যমে পরিচালিত হবে বলে এ সময় চুক্তি সই করা হয়।

গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, ‘আমরা যখন প্রথমে ব্যবসা শুরু করি, তখন সরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গেলে ১০ পৃষ্ঠার ফরম পূরণ করে জমা দিতে হতো। সেটা পূরণ করতে গিয়ে আবার ভুল হতো, এভাবে সময় গড়িয়ে যেত কিন্তু আমরা ঋণ পেতাম না। অন্যদিকে সরকার যখন প্রাইভেট ব্যাংকের অনুমোদন দিল, তখন ব্যাংকগুলো আমাদের কারখানায় গিয়ে ঋণ সুবিধা দেওয়ার জন্য বসে থাকত। যেখানে আগে কয়েক মাসেও ঋণ সুবিধা পেতাম না, সেখানে প্রাইভেট ব্যাংক আসার পর এক সপ্তাহে আমরা ঋণ সুবিধা পেয়ে গেছি। তাই শিল্পের অগ্রসরতায় প্রাইভেট ব্যাংকের ব্যাপক অবদান রয়েছে।

পিপিপির মাধ্যমে চুক্তি সইয়ের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সারা পৃথিবীর মধ্যে আমরাই প্রথম পিপিপির মাধ্যমে টেক্সটাইলগুলোকে এগিয়ে নেওয়ার প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এই শিল্প বেঁচে থাকলে কর্মসংস্থানের অভাব থাকবে না।

এখনো সরকারি অফিসে কাজে দীর্ঘসূত্রতা হয় উল্লেখ করে গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, এই ধীরগতি তথা দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনতে হবে। যত দ্রুত সরকারি অফিসের ফাইলের দীর্ঘসূত্রতা কমানো যাবে, ততই উন্নয়ন বেগমান হবে। এরই মধ্যে আমরা কর্মসংস্থান এবং সব ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এগিয়ে গেছি। এই উন্নয়ন আরো বেগবান হবে।

মন্ত্রী জানান, ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিটিএমসির বন্ধ মিলগুলো চালু করার বিষয়ে নির্দেশনা দেন। পরে বিটিএমসির বন্ধ মিলগুলো পিপিপির মাধ্যমে পরিচালনার জন্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে পিপিপির মাধ্যমে বিটিএমসির ২৫টি মিলের মধ্যে ১৬টি মিল পিপিপির আওতায় পারিচালনার জন্য অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিইএ) নীতিগত অনুমোদন দেয়। ফলে এখন থেকে ঘুরবে বন্ধ মিলগুলোর চাকা।

ঋণখেলাপিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে গোলাম দস্তগীর বলেন, যারা ঋণখেলাপি, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। ব্যাংকগুলো থেকে টাকা নেবেন কিন্তু দেবেন না, সেটা হতে পারে না। তাই যারা ঋণখেলাপি, তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতেই হবে। নয়তো ব্যাংকগুলো পথে বসে যাবে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব গুলনার নাজমুন নাহার, মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইসরাফিল আলম, মোমিন ম-ল, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল করপোরেশনের (বিটিএমসি) চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, তানজীনা বাওয়ানি টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসানুল মুজিব প্রমুখ।

 

 

"