দাবি আদায় না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন কর আইনজীবীরা

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাজেটে আয়কর অধ্যাদেশের ১৭৪ ধারার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে আগামী ৩০ জুনের পর থেকে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কর আইনজীবীরা। তবে এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার আশ্বাসে আগামী পাঁচ দিন কড়া অবস্থানে না গিয়ে দেশব্যাপী ছোট আকারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানান তারা।

গতকাল মঙ্গলবার এনবিআরের নিচতলায় বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএলএ) এবং ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে প্রস্তাবিত অর্থ বিল, ২০১৯-এ আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ১৭৪(২)(এফ) ধারার পুনর্বহাল ও বাজেট বাস্তবায়নে কর আইনজীবীদের ভূমিকা সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনের নেতারা। তারা বলছেন, সরকারের রাজস্ব আহরণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পাশাপাশি সহযোগী ভূমিকা পালন করে এলেও এনবিআরের একজন কর্মকর্তা অসৎ উদ্দেশ্যে সরকার ও আইনজীবীদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বক্তারা বলেন, আইনজীবীদের এই আন্দোলন বাজেট বা সরকারের বিরুদ্ধে নয়, শুধু একটি ধারার বিরুদ্ধে, যা বাস্তবায়ন হলে এই পেশাটির পেশা হিসেবে হুমকির মুখে পড়বে।

সাবেক এমপি ও বিটিএলএর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিন বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ১৭৪(২)(এফ) পরিবর্তন যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে আয়কর কর্মকর্তারা টেক্স বারের সদস্য না হয়েই আয়কর আইনজীবী হিসেবে পেশায় নিয়োজিত হতে পারবেন। এতে এই পেশার মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেবে বলে তিনি মনে করেন।

৩০ তারিখের পর বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ এনবিআরের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে তিনি বলেছেন, বাজেটে ১৯৮৪-এর ১৭৪(২)(এফ) ধারাটি বাতিলের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা বাতিল করে বর্তমানে আইনটি যেভাবে আছে, সেভাবেই বহাল রাখা হবে। তার আশ^াসে আশ্বস্ত হয়ে আমরা ৩০ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই। ৩০ তারিখ সংসদে বাজেট পাস হবে। বাজেট পাসের পর যদি দেখি আমাদের দাবি মানা হয়নি, তখন থেকেই দেশব্যাপী দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব।’

সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট শাহ্ জিকরুল আহমেদ বলেন, এনবিআর যে বিশাল পরিমাণ রাজস্ব সরকারকে দেয়, তার সহায়তা করি আমরা আয়কর আইনজীবীরা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, একজন কর্মকর্তা সম্পূর্ণ নিজ হীন-উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে সরকারের ওপরমহলকে ভুল বুঝিয়েছে। শত বছরের একটি সুন্দর আইনটি পরিবর্তন করে একটি কালো আইন তৈরি করে আইনজীবীদের সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তিনি অবিলম্বে দাবি মেনে নিয়ে আইনজীবীদের বিশাল বাজেটের রাজস্ব আহরণে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।

ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন আহমেদ, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আকবর হোসেন, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট অধ্যাপক আবদুল মজিদ, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আব্বাস উদ্দিন, বাংলাদেশ আওয়ামী কর আইনজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইকবাল মোস্তফা, ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট মো. মুস্তাফিজুর রহমান, লাইব্রেরি সম্পাদক মশিউর রহমানসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

"