প্রত্যাহার হতে পারে সঞ্চয়পত্রে বর্ধিত কর প্রস্তাব

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর বর্ধিত কর প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে পারে সরকার। নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পাসের দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্ধিত কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্ধিত এ কর আরোপের প্রস্তাব নিয়ে ইতোমধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

আলোচনায় উঠে আসছে, এই কর বৃদ্ধি সমাজের মধ্যবিত্ত, অবসরভোগী ও ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের আয়ের ওপর সরাসরি আঘাত করবে। এ অবস্থায় সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর বর্ধিত কর প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর বর্ধিত কর প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারের দুই ধরনের চিন্তা রয়েছে। এর একটি হচ্ছে বাজারে প্রচলিত সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের ওপর থেকে বর্ধিত কর প্রত্যাহার করা হবে। অথবা শুধু পরিবারভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ওপর তা প্রত্যাহার করা হবে। তবে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের ওপর, না কি শুধু পারিবারিক ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ওপর বর্ধিত কর প্রত্যাহার করা হবে; সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পাসের দিন অর্থাৎ ৩০ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্ধিত কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করতে পারেন।

প্রসঙ্গত, পারিবারিক সঞ্চয়পত্র শুধু নারীরা ক্রয় করতে পারেন। পেনশনার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন অবসরভোগী চাকরিজীবীরা। এদিকে পাঁচ বছরের ব্যবধানে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। প্রতি বছর সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার কী পরিমাণ ঋণ নেবে, তার একটি প্রক্ষেপণ বাজেটে উল্লেখ থাকে। কিন্তু বিগত পাঁচ বছরে সরকারের পক্ষ থেকে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য স্থির থাকা সম্ভব হয়নি। যেমন ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল মাত্র ৯ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বছর শেষে ঋণ নেওয়া হয় ২৮ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। অন্যান্য বছরে একই প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই ২০১৮-এপ্রিল ২০১৯) সঞ্চয়পত্র থেকে নিট বিনিয়োগ এসেছে ৪৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা।

 

 

 

"