৩০ সংস্থার কাছে সরকারের পাওনা ৪০ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রায়ত্ত ৩০ সংস্থার কাছে আটকে আছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠান লোকসানে থাকার কারণে পরিশোধ করছে না ঋণ। আর এতে বিপাকে পড়েছে সরকারি মালিকানাধীন সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক। সংকট সমাধানে প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের তাগিদ দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।

পিডিবি, বিএসএফআইসি, বিসিআইসি, বিএডিসি, বিপিসির মতো রাষ্ট্রায়ত্ত ৩০টি সংস্থার মাধ্যমে পণ্যের উৎপাদন ও সেবা প্রদানে প্রতিটি বাজেটে বরাদ্দ ও ভর্তুকি দেয় সরকার। চলতি অর্থবছরেও এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য ভর্তুকি বরাদ্দ ১ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা।

রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বাড়তি বরাদ্দ দেওয়ার পরও এসব প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না। উল্টো প্রতি বছর আরো ঋণ নেওয়ায় বাড়ছে দেনার পরিমাণ। চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত এসব সংস্থার কাছে সরকারি ব্যাংকের পাওনা ৩৯ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা। ঋণগ্রহীতার তালিকায় শীর্ষে পিডিবি। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে তাদের ব্যাংকঋণ ছিল ১০ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে যা বেড়ে হয় ১১ হাজার ৪২০ কোটি টাকা।

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, ঋণ বলেন, সাবসিডি বলেন, আর যা-ই বলেন; পিডিবি এটা নিচ্ছে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বেচার কারণে। তাই ঋণ শোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, অপ্রয়োজনীয় খরচের কারণে লাভ করতে পারছে না। ৪০ পয়সা প্রতি ইউনিট সঞ্চালন ব্যয়ের বদলে হচ্ছে ৬০ পয়সা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মান বাড়ানো এবং প্রতিযোগিতামূলক করা হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও লাভজনক করা সম্ভব। সরকারি সংস্থায় অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার তাগিদও দিচ্ছেন তারা।

পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর মনে করেন, বিভিন্ন জায়গায় দুর্নীতি আছে, এগুলো দূর করতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। লোকসানি সংস্থা আমাদের কেন টানতে হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত এসব সংস্থার খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১১১ কোটি টাকা। তালিকার শীর্ষে রয়েছে বিজেএমসি। সংস্থাটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩৭ কোটি টাকা। তালিকায় আরো আছে বিটিএমসি, বিএডিসি, টিসিবিসহ আটটি সংস্থা।

 

 

"