বিএসইসির কাছে বিনিয়োগকারীদের ১৪ দাবি

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

শেয়ারবাজারের উন্নয়নে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে ১৪ দফা দাবি জানিয়েছে বিনিয়োগকারীরা।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের পক্ষে লিখিতভাবে এই দাবি জানানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১০ সালে যে ধস শুরু হয়েছিল, তা ২০১৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অযাচিত হস্তক্ষেপ ও সিদ্ধান্তহীনতা দায়ী। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

১৪ দফা দাবি হলোÑ ইস্যু মূল্যের নিচে অবস্থান করা শেয়ারগুলো নিজ নিজ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদকে ইস্যু মূল্যে কিনে নিতে হবে; প্লেসমেন্ট শেয়ারের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে এবং প্লেসমেন্ট শেয়ারের লক ইন পিরিয়ড পাঁচ বছর করতে হবে; শেয়ারবাজারের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে আসন্ন বাজেটে পুঁজিবাজারে অর্থের যোগান বৃদ্ধির জন্য সহজ শর্তে অর্থাৎ ৩ শতাংশ সুদে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। অপ্রদর্শিত অর্থ বিনা শর্তে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে; পাবলিক ইস্যু রুলস ২০১৫ বাতিল করতে হবে এবং সব ধরনের আইপিও তিন বছরের জন্য বন্ধ রাখতে হবে। জেড ক্যাটাগরি এবং ওটিসি মার্কেট বলতে কোনো মার্কেট থাকতে পারবে না। বিডিং প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী ইলিজিবল ইনভেস্টারদের সক্ষমতা ও যোগ্যতা যাচাই করতে হবে এবং বিডিং প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত শেয়ারের লক ইন পিরিয়ড দুই বছর করতে হবে। ২ সিসি আইনের বাস্তবায়ন করতে যেসব কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ব্যক্তিগতভাবে ২ শতাংশ এবং সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই ওই উদ্যোক্তা পরিচালক ও কোম্পানিগুলোকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আইপিও কোটা ৮০ শতাংশ করতে হবে।

পুঁজিবাজারের প্রাণ মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোকে পুঁজিবাজারে সক্রিয় হতে বাধ্য করা এবং প্রত্যেক ফান্ডের ন্যূনতম ৮০ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হবে। জীবন বীমা খাতের বিপুল অলস ও সঞ্চিত অর্থের ৪০ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বাধ্য করতে হবে। ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মার্জিন লোনের সুদ সম্পূর্ণ মওকুফ করতে হবে। খন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে এবং জীবন বাঁচাতে এবং ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে সব প্রকার মামলা প্রত্যাহার ও পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

 

"