বাজেটে বেনাপোল স্থলবন্দরের উন্নয়নে বরাদ্দ দাবি

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০

এইচ আর তুহিন, যশোর

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল। রাষ্ট্রের উন্নয়ন বাজেটে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য অর্থের জোগান আসে এ বন্দরের রাজস্ব আয় থেকে। বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানিও বেড়েছে আগের তুলনায় অনেক। কিন্তু সেই তুলনায় বাড়েনি সুযোগ-সুবিধা। অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে ব্যাহত হচ্ছে বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম। রয়েছে জনবলের সংকটও। এবারের বাজেটে তাই এসব সমস্যা সমাধানে বেনাপোলের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ চান ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা। কলকাতা থেকে বেনাপোলের দূরত্ব মাত্র ৮০ কিলোমিটার। কিন্তু যাতায়াতে সময় লাগে তিন ঘণ্টার মতো। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের পছন্দের তালিকায়ও প্রথম সারিতে বেনাপোল বন্দর। দেশের সিংহভাগ গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রিসহ বিভিন্ন শিল্প-কলকারখানার কাঁচামাল আমদানি হয় এ বন্দর দিয়ে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ বন্দরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গত ৬ মাসে আদায় হয়েছে ২ হাজার ৪৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। তবে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি বন্দরে। তাই আসছে বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ চান ব্যবসায়ীরা। বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, দেশের স্থলপথে যে পণ্য আমদানি-রফতানি হয়, তার ৬৫ শতাংশ হয়ে থাকে শুধু বেনাপোল বন্দর দিয়ে। একসময় আমরা কেবল আমদানিতে আগ্রহী ছিলাম। এখন রফতানির দিকেও ঝুঁকছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিবছর এ বন্দর থেকে সরকার প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে থাকে। তবে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে হলে ব্যবসায়ীদের বৈধ সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হোক। ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দরে আমদানীকৃত পণ্য থাকে খোলা আকাশের নিচে। ফলে রোদ-বৃষ্টিতে অনেক পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। এতে ক্ষতি হয় ব্যবসায়ীদের। অথচ আমরা পণ্যের শুল্ক কিন্তু দিয়ে যাচ্ছি। আসন্ন বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছি। যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান খান বলেন, বেনাপোল বন্দর থেকে সরকারকে প্রতিবছর আমরা যে রাজস্ব দিয়ে থাকি তার একটা বড় অংশ যদি এই বন্দরের উন্নয়নে ব্যয় করা হয়, তাহলে বন্দরের চেহারা পাল্টে যাবে। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার কারণে বাড়বে আমদানি-রফতানিও। বৃদ্ধি পাবে রাজস্ব।

তিনি আরো জানান, বন্দরের উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে সরকারের দেওয়া আশ্বাসের পরও সমস্যার সমাধান হয়নি। অথচ বেনাপোল বন্দর উন্নয়ন হলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান আরো উন্নত করা সম্ভব। জাতীয় বাজেটে এ বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

 

"