চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার-জট

‘দু-তিন দিনের মধ্যেই অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে আসবে’

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম বন্দরে ঈদের পর থেকে জমে থাকা কনটেইনার নিয়ে ব্যবসায়ী মহলের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। আর এটি বন্দরের স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার বাইরে যায়নি বলেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার কনটেইনার-জট সমস্যার সমাধান করার আহ্বান জানিয়ে পত্রপত্রিকায় বিবৃতি দিয়েছেন ব্যবসায়ীদের সংগঠন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিএমসিআই) সভাপতি খলিলুর রহমান।

এ ব্যাপারে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই জানিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক গতকাল বুধবার প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে জমে যাওয়া কনটেইনারগুলো আশা করছি দু-তিন দিনের মধ্যে ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হবে। এতে ব্যবসায়ী মহলের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। প্রতিদিনের চেয়েও চার থেকে সাড়ে চার হাজার বেশি কনটেইনার এখন বন্দরে ডেলিভারি হচ্ছে এবং বন্দরে এ মুহূর্তে ৫০ হাজার কনটেইনার রাখার ধারণক্ষমতা রয়েছে।’

তিনি জানান, বর্তমানে জমে থাকা কনটেইনারের সংখ্যা ৪২ হাজার, যা ধারণক্ষমতা অতিক্রম করেনি। তবে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে চার হাজার কনটেইনার ডেলিভারি হয় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে। ঈদের ছুটিতে আমদানিকারকদের কনটেইনার সরবরাহ নিতে অনাগ্রহ, মহাসড়কে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, কারখানার শ্রমিকদের লম্বা ছুটি, ট্রাক-কাভার্ডভ্যানচালকদের গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপনসহ নানা কারণে কনটেইনার ডেলিভারিতে খানিকটা ব্যাঘাতের সৃষ্টি হয়।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চট্টগ্রাম বন্দরে ধারণক্ষমতার বাইরে প্রায় চার হাজার কনটেইনার জমে গেছেÑ এমন খবরে ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বেড়েছে। স্বাভাবিকভাবে আমদানি পণ্যের চালান সময়মতো ডেলিভারি না হলে বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। সেই সঙ্গে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, দেশীয় শিল্প উৎপাদনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হলে রফতানির ক্ষেত্রেও এর মারাত্মক ক্ষতিকারক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে পোশাকশিল্পের শিপমেন্ট বিঘিœত হলে বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার বাতিলও করতে পারেন। এর ফলে রফতানিমুখী পোশাকশিল্পের মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের ধারণক্ষমতা ৪৯ হাজার টিইউএস। সম্প্রতি বন্দরে কনটেইনার ছিল ৪২ হাজার ৪২৫ টিইউএস। যদিও ইয়ার্ডে ক্রেনসহ কনটেইনারবাহী বিভিন্ন যানচলাচলের সুবিধার্থে ৩০ শতাংশ জায়গা খালি রাখতে হয়।

এদিকে গত মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আমদানি পণ্যের কনটেইনার-জট দ্রুত ডেলিভারি এবং অফডকে রফতানিযোগ্য কনটেইনার শিপমেন্ট স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি খলিলুর রহমান।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে ধারণক্ষমতার বাইরে প্রায় চার হাজার কনটেইনার জমে গেছে। এমন একটি সমস্যা পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাভাবিকভাবে আমদানিপণ্যের চালান সময়মতো ডেলিভারি না হলে বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের সমন্বয়ে বিশেষভাবে ব্যবস্থা নিতে তিনি এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, দেশি শিল্প উৎপাদনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হলে রফতানির ক্ষেত্রেও এর ক্ষতিকারক প্রভাব পড়তে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে বন্দর থেকে আমদানি পণ্যভর্তি কনটেইনার ডেলিভারি নেওয়ার চাহিদা কমলেও জাহাজ থেকে কনটেইনার লোড-আনলোড পুরোদমে চলেছে। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যেই ডেলিভারি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তিনি জানান। তিনি আরো জানান, বিশেষ করে পোশাকশিল্পের শিপমেন্ট বিঘিœত হলে বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার বাতিলও করতে পারেন। এর ফলে রফতানিকারক পোশাকশিল্পের মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

 

"