বেতন পাঠাতে ১৫ দিন বেশি সময় পেলেন বিদেশিরা

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বেতন পাঠাতে বিদেশি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এখন থেকে আরো অর্ধ মাস বা ১৫ দিন সময় বেশি পাচ্ছেন। আগে বিদেশিরা বেতন-ভাতা দেশের বাইরে পাঠানোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ দিন সময় পেত। এখন থেকে তারা দেড় মাস বা ৪৫ দিন সময় পাবেন। বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নীতিমালা সংশোধন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্প্রতি জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উন্নত দেশগুলো থেকে অর্থ অন্য কোনো দেশে নিতে অনুমতি লাগে না। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে নিতে গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন। দেশের রিজার্ভের ভিত্তি এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। এ কারণে অনুমোদন নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তবে রিজার্ভের পরিমাণ গত ১১ বছর ধরে টানা বাড়তে থাকায় এখন বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নীতিমালা কিছুটা শিথিল করা হয়েছে।

এর আগে গত বছরও বিধিমালাটি সংশোধন করা হয়। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ফের সংশোধন করা হলো। সম্প্রতি বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের আরো কয়েকটি বিধি সংশোধন করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশের যেকোনো ব্যাংক শাখায় বিদেশিদের অ্যাকাউন্ট খোলার বিধান করা হয়েছে। আগে তারা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী শাখা ছাড়া অন্য কোনো শাখায় হিসাব খুলতে পারতেন না।

বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য টাকায় ঋণ নেওয়ার বিধানও করা হয়েছে। আগে তারা টাকায় ঋণ নিতে পারতেন না। বিদেশি কোম্পানিগুলোকে বৈদেশিক মুদ্রায় স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেওয়ার বিধিও শিথিল করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, দেশ থেকে যেসব অর্থ পাচার হচ্ছে তার একটি অংশ যাচ্ছে বেআইনিভাবে থাকা বিদেশিদের মাধ্যমে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশে কর্মরত দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলোতে যেসব বিদেশি কর্মকর্তা ও কর্মচারী আছেন তারা যে বেতন-ভাতা বা অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পান তার একটি অংশ নিজ দেশে বা অন্য দেশে পাঠাতে পারেন। তারা প্রাপ্য বেতন-ভাতার পুরোটা পাঠাতে পারেন না।

এ থেকে জীবনযাত্রার ব্যয় বাদ দিয়ে সঞ্চয়ের টাকা পাঠাতে পারেন। জীবনযাত্রার খরচ নির্ভর করে বিদেশি কর্মীর ওপর নির্ভরশীল কতজন সঙ্গে থাকেন, তাদের জীবনযাত্রার ধরন কেমন, তার ওপর। এসব অর্থ পাঠাতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমোদন নিতে হয়। অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যে অর্থ পাঠাতে হতো। অনুমোদনের পর এসব অর্থ পাঠাতে নানা ধরনের বিধিবিধান পালন করতে হতো। অফিসের কাজ করে অনেকেই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে অর্থ পাঠাতে পারতেন না। এ বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানানোর পর তারা এর মেয়াদ আরো ১৫ দিন বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে এখন ৪৫ দিনের মধ্যে বেতন-ভাতা বাবদ প্রাপ্য অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

"