অর্থ পাচার রোধে নিজস্ব ডেটা ব্যাংক গড়ার তাগিদ

প্রকাশ : ২২ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থ পাচার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার অপেক্ষায় না থেকে ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব ‘ডেটা ব্যাংক’ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে এ ‘ডেটা ব্যাংক’ যেন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিজেদের কাজে ব্যবহার করতে পারে তারও উদ্যোগ নিতে হবে। অর্থ পাচার রোধে ব্যাংকের পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং অন্যান্য সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত এক গবেষণা কর্মশালায় এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ‘অ্যাড্রেসিং ট্রেড বেজড মানি লন্ডারিং ইন বাংলাদেশ : অ্যান অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক গবেষণা কর্মশালায় উপস্থিত বক্তারা এসব তথ্য জানান। কর্মশালায় ড. মোজাফফর আহমদের সভাপতিত্ব মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের পরিচালক (ট্রেনিং) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব। গবেষণা দলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন বিআইবিএমের অনুষদ সদস্য শেখ নাজিবুল ইসলাম, বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, বিআইবিএমের সহকারী অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক কামাল হোসেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের এসভিপি মাহমুদুর রহমান, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ভিপি এ টি এম নেসারুল হক, এনবিআরের প্রথম সচিব সৈয়দ মুশফিকুর রহমান প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এবং বিআইবিএমের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, বাণিজ্যকেন্দ্রিক অর্থ পাচার রোধে এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। একটি গাইড তৈরি করছে, যা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সারা বিশ্বে এখন অর্থ পাচার একটি চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। এ সমস্যা মোকাবিলায় সব সংস্থাকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও জনশক্তি নেই। এ দিকে নজর দিয়ে ব্যাংকারদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেক ব্যাংকের নিজস্ব ডেটা ব্যাংক করতে হবে। যা অন্য ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারে। পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, অর্থ পাচার প্রতিরোধে সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। ব্যাংক এবং সব স্টেক হোল্ডারের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। ব্যাংকের এডি শাখাগুলোকে সুষ্ঠু মনিটরিং করতে হবে। একইসঙ্গে পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল দিতে হবে। ব্যাংকারদের ব্যাংকিংয়ের পাশপাশি ট্রেডের খুঁটিনাটি জানাতে হবে। বাণিজ্য পণ্যের মূল্য নির্ধারণে ব্যাপারে বিদেশি সংস্থার সহায়তা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলী বলেন, ক্রেডিট রিপোর্ট ব্যাংকারদের ভালোভাবে জানতে হবে। অর্থ পাচার রোধে গুরুত্বপূর্ণ আইন করার সময় ব্যাংকিং অপারেশনে ক্ষতি না হয় সেই দিকটি বিবেচনায় রাখতে হবে। ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফারুক মাঈনুদ্দিন আহমেদ বলেন, গ্রাহক এবং ব্যাংকার সব পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। অর্থ পাচারের পেছনের কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে।

 

"