ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা

আসন্ন বাজেটে কাটবে আবাসন খাতের সংকট

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফ্ল্যাট বা প্লট কিনতে সরকারের কড়া নজরদারির কারণে দেশের অর্থ বাইরে পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া ফ্ল্যাট ও প্লট কেনার সময় সরকারের অতি নজরদারির কারণে বিপুল পরিমাণ কালো টাকাও দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হয় না। তবে আসন্ন বাজেটে আবাসন খাতের চলমান সংকট কাটবে বলে প্রত্যাশা করছেন খাতটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

আবাসন সংশ্লিষ্টরা জানান, সুপরিকল্পিত নগরায়ণের পাশাপাশি নাগরিকদের বাসস্থানের মৌলিক চাহিদা পূরণে আবাসন খাত সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় আসা জরুরি। দিতে হবে নীতিগত সহায়তাও। বর্তমান বাস্তবতায় কোনো ব্যক্তি ফ্ল্যাট ও প্লট বুকিং দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থের উৎসসহ নানা ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় সরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের। আবাসন খাতের জন্য এটি অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা।

ফ্ল্যাট বা প্লট কিনতে অতি নজরদারির কারণে অর্থপাচারের আশঙ্কা বাড়বে। মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতেও দ্বিতীয় বাড়ি (সেকেন্ড হোম) ক্রয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচার করে অনেকে। দেশে প্রায় সাত লাখ কোটি কালো টাকা রয়েছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। বিপুল এই টাকা দেশে বিনিয়োগ করার সুযোগ দেওয়া না হলে সেগুলো বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবাসন ব্যবসায়ীরা আরো জানান, যুক্তরাষ্ট্রে জমি ও ফ্ল্যাট কিনতে মাত্র ১ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা পায় গ্রাহকরা। কিন্তু বাংলাদেশে ব্যাংকঋণের অপ্রতুলতার পাশাপাশি রয়েছে হয়রানির আশঙ্কা। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বিদ্যমান সমস্যাগুলো অনুধাবন করে আসন্ন বাজেটে একটা সমাধানের পথ বের করার উদ্যোগ নেবেন।

আবাসন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য মতে, মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) খাতটির সরাসরি অবদান ৭.০৮ শতাংশ। এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পের অবদান যোগ করলে জিডিপিতে আবাসন খাতের অবদান বেড়ে দাঁড়াবে ১২ শতাংশের বেশি। একই সঙ্গে ৩৫ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করেছে এই খাত, যাদের ওপর নির্ভরশীল প্রায় দুই কোটি মানুষ। সরকারের সঠিক নীতি সহায়তা পেলে এই খাতের আরো প্রসার ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই নতুন বাজেটে অগ্রাধিকার পাওয়ার দাবি রাখে আবাসন খাত।

আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) একটি হিসাব বলছে, গত তিন দশকে দুই লাখের বেশি ফ্ল্যাট ও এক লাখ প্লট গ্রাহকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

"