আরসিবিসি বেকায়দায় আছে : গভর্নর

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছে ফিলিপাইনের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি)। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, আরসিবিসির বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংক যে মামলা করেছে এতে তারা বেকায়দায় আছে। এ জন্যই আরসিবিসি আমাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছে।

গতকাল রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন-২০১৯ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

আরসিবিসির সঙ্গে সমঝোতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিউইয়র্কের আদালতের মামলার নিয়ম অনুযায়ী আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি এটি অন্যকিছু নয়। গতকাল বুধবার রাতে আমাদের প্রতিনিধিদল দেশে আসবে তারা সবকিছু বলতে পারবে। তিন বছর আগে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশের রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারের আশায় গত ২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তার জবাবে আরসিবিসি মানহানির অভিযোগ এনে গত ৬ মার্চ ফিলিপাইনের সিভিল কোর্টে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে পাল্টা একটি মামলা করে বলে মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ফিলিপাইনের ব্যাংকটি বলছে, তাদের কোম্পানির সুনাম ও ভাবমূর্তি ওপর বারবার ‘অশুভ আক্রমণ’ চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ কোটি পেসো (১৯ লাখ ডলার) দাবি করা হয়েছে মামলায়।

এক বিবৃতিতে আরসিবিসি বলেছে, ‘টাকা আদায় করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বিরাট এক ষড়যন্ত্র শুরু করেছে, সেজন্য তারা আরসিবিসির সুনাম ক্ষুণœ করতে, ভাবমূর্তি নষ্ট করতে উঠে পড়ে লেগেছে। কিন্তু যে টাকার জন্য এটা তারা করছে, তা কখনোই আরসিবিসির কাছে ছিল না, ওই টাকার দায়ও আরসিবিসির নয়।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, খেলাপি ঋণ যাতে কোনোভাবেই আর বাড়তে না পারে সে বিষয়ে ব্যাংকারদের সতর্ক থাকতে হবে। আর যেসব ব্যাংক কর্মকর্তা অসাধু ব্যবসায়ীদের অপরাধে সহযোগিতা দেবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুশিয়ার করেছেন।

তিনি বলেন, কোনো ক্ষেত্রেই যেন নন পারফর্মিং লোন না বাড়ে। যারা বোঝে না তাদের ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রাখব না, এটা খেলার জায়গা না। না বুঝলে হবে না। পরিচালক নিয়োগে অনেক সুপারিশ সামলাতে হয় জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, অভিজ্ঞতা ছাড়া কোনো পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে না।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে তিনি বলেন, একজন অসাধু অফিসার আপনাদের সাফল্য ম্লান করে দেবে। ১০টি ভালো কাজ করেন, একটি খারাপ কাজ বলবেÑ ‘সব নিয়ে চলে গেছে’। যিনি অন্যায় করেন আর অন্যায়কে সহায়তা করেন- অপরাধ তো একই রকম।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন সব প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলবে বলে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন। এ কারণে ব্যাংক কর্মকর্তাদের দুর্নীতি না করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক শপথ করাতে চান তিনি। হাত তুলে শপথ করতে হবে যে আপনারা দুর্নীতিকে ‘না’ বলবেন, নিজে দুর্নীতি করবেন না, অন্য কাউকে দুর্নীতি করতে সহয়তা করবেন না। অসৎ কাজ থেকে সব সময় দূরে থাকতে হবে বলে সর্তক করে দেন তিনি।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, যারা অসাধু ব্যবসায়ী, তাদের সঙ্গে কিন্তু আমরাও থাকি। আমরা যারা আছি তাদেরও কিন্তু কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। যারা তাদের প্রশয় দিয়েছে তাদের বের করা খুব কঠিন না বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

অপরাধ স্বীকার করলে ক্ষমা করে দেওয়া হবে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সবাইকে সঠিক করে ঠিক পথে নিয়ে আসা হবে। কেউ অপরাধ করে ভিন্ন পথে যদি টাকা নিয়ে থাকে; তা যদি ফেরত দিতে পারে, গোপনে আমাকে বললেও মাফ করে দেওয়া হবে।

লিজ ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ নিরীক্ষার আওতায় আনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ২ একটি বাদ দিলে কোনো প্রতিষ্ঠানেই ফোন করে কাউকে পাওয়া যায় না। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে স্পশাল অডিট করব। তবে কাউকে ছোট করার জন্য নয়, কাউকে জেলে পাঠানোর জন্য নয়। প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

আর্থিক খাতে অপচয় কমাতে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নিয়ে আসা হবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ব্লকচেইন টেকনোলজি নিয়ে আসতে হবে। একটি কমপ্রিহেনসিভ টেকনোলজিতে আনতে হবে, যাতে সবাই একই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। বিভিন্ন ধরনের টেকনোলজি ব্যবহারে অপচয় বাড়ে। এছাড়া যারা ব্যবসার পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে খারাপ অবস্থানে চলে গেছেন, তাদের সহায়তা করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুরু করা অনেক কঠিন। তাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার জন্য আসিনি। যারা ভালো ব্যবসায়ী তাদের অনেক সহায়তা করা হবে। আমরা যা করব, সততার মধ্যে করব। এমনভাবে পলিসি করব যাতে সবাই উপকৃত হন । খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২০১৮ সালে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে স্বীকার করে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থিত গভর্নর ফজলে কবির বলেন, যদিও এটি জনতা ব্যাংকের একার বিষয় না, পুরো ব্যাংকিং খাতে এটা বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এ টাকা যেন আর বৃদ্ধি না হয়।

 

"