এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে রিজালের পাল্টা মামলা

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেছে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি)। মানহানির অভিযোগে এ মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আরসিবিসি। ফিলিপাইনের সংবাদমাধ্যম এবিএস-সিবিএনের খবরে বলা হয়েছে, তাদের কোম্পানির সুনাম ও ভাবমূর্তি ওপর বারবার ‘অশুভ আক্রমণ’ চালানো হচ্ছে। এতে তাদের মানহানি ঘটেছে। এর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ কোটি পেসো বা ১৯ লাখ মার্কিন ডলার দাবি করা হয়েছে।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আরসিবিসি মামলা করেছে বলে বিদেশি বার্তা সংস্থার মাধ্যমে জেনেছি। এটি যেহেতু আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা তাই এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল এখন ফিলিপাইনে। তারা দেশে এলে এ বিষয়ে বলতে পারবেন।

তিন বছর আগে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়ে যায়। ওই চুরির ঘটনায় আরসিবিসির নাম জড়ানোয় ফিলিপাইনের ওই ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করে। তবে এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে চুরি হওয়া রিজার্ভের অর্থ ফেরত আনতে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আরসিবিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ১ ফেব্রুয়ারি মামলা করা হয়।

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারিতে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে (ফেড) রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে একটি মেসেজের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় একটি ভুয়া এনজিওর নামে ২০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেওয়া হলেও বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়। বাকি চারটি মেসেজের মাধ্যমে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে নেওয়া হয় ফিলিপাইনের মাকাতি শহরে রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের জুপিটার স্ট্রিট শাখায় ভুয়া তথ্য দিয়ে খোলা চারটি অ্যাকাউন্টে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ওই অর্থ ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া হয়। আবার ফিলরেম মানি রেমিট্যান্স কোম্পানির মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রা পেসোর আকারে সেই অর্থ চলেও যায় তিনটি ক্যাসিনোর কাছে। তার মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করা হয়। পরে তা বাংলাদেশ সরকারকে বুঝিয়ে দেওয়া হলেও বাকি অর্থ উদ্ধারে তেমন অগ্রগতি নেই।

জানা যায়, তিন বছর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের খোয়া যাওয়া সাড়ে ৬ কোটি ডলার উদ্ধারে গত ১ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের ম্যানহাটন সাদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওই অ্যাকাউন্টগুলোর ওপর আরসিবিসি এবং এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। কী ধরনের অপরাধ হচ্ছে জেনেও অ্যাকাউন্ট খোলা, বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর এবং পরে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়গুলো ঘটতে দিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশের রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া অর্থ ফিলিপাইনে ঢোকার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে দেশটির সিনেট কমিটি তদন্ত শুরু করে। ওই ঘটনায় আরসিবিসি তাদের শাখা ম্যানেজার দেগিতোকে বরখাস্ত করে। আর ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রা পাচার ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় ১ কোটি ৯১ লাখ ডলার জরিমানা করে আরসিবিসিকে। ওই সময় করা মামলায় ফিলিপাইনের আদালত গত ১০ জানুয়ারি আরসিবিসির শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগিতোকে মুদ্রা পাচারের আট দফা অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের করা মামলাতেও তাকে আসামি করা হয়েছে।

 

"