অপেক্ষায় আরো একটি

লাইসেন্সের জন্য সম্মতিপত্র পেল দুই ব্যাংক

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসরকারি খাতে নতুন করে অনুমোদন পাওয়া তিন ব্যাংকের মধ্যে দুটি ব্যাংককে লাইসেন্সের জন্য প্রাথমিভাবে সম্মতিপত্র (এলওআই বা লেটার অব ইনটেন্ট) দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত সপ্তাহের শেষ দিকে এলওআই পাওয়া ব্যাংক দুটি হলোÑ বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক ও সিটিজেন ব্যাংক। তবে নতুন আরেকটি ব্যাংক পিপলস ব্যাংককে এখনো এলওআই দেওয়া হয়নি। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আবুল কাসেমের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ আসায় বাংলাদেশ ব্যাংক তা যাচাই-বাছাই করছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভায় নতুন তিনটি ব্যাংককে অনুমোদন দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি ওই সভায় সব ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, নতুন অনুমোদন পাওয়া তিনটি ব্যাংকের মধ্যে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক ও সিটিজেন ব্যাংককে সম্মতিপত্র (এলওআই) দেওয়া হয়েছে। এলওআই দেওয়ার পর ব্যাংকগুলোকে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে, যেমনÑ লিমিটেড কোম্পানি হয়ে আসতে হবে, ৫০০ কোটি টাকা ডিপোজিট করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ করলে তারা চূড়ান্ত লাইসেন্স পেয়ে যাবে।

পিপলস ব্যাংকের এলওআই না দেওয়া প্রসঙ্গে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ আসায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা না পেলে ওই ব্যাংককেও এলওআই দেওয়া হবে।’

এলওআই পাওয়া বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রস্তাবিত চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি জসীম উদ্দিন। তিনি বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান। ব্যাংকটির পরিচালক হিসেবে রয়েছে জসীম উদ্দিনের ভাই আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোর্শেদ আলম। এছাড়া সিটিজেন ব্যাংকের প্রস্তাবিত চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মা জাহানারা হক। আর পিপলস ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নাম প্রস্তাব করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা এম এ কাশেম।

গত বছরের ২৯ অক্টোবর পুলিশের কমিউনিটি ব্যাংককে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার ফলে দেশে বর্তমানে ব্যাংকের সংখ্যা ৫৯। সর্বশেষ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আরো তিনটি ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ায় দেশে মোট তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়াল ৬২টি। এর মধ্যে ৪৪টি বেসরকারি খাতের, ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ত ও ৯টি বিদেশি মালিকানার ব্যাংক ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার প্রথম মেয়াদে ২০০৯ সালে ৯টি নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেয়। পরবর্তীতে সীমান্ত ব্যাংক নামের আরেকটি ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হয়। এছাড়া গত জুলাইয়ে বিশেষায়িত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে বাণিজ্যিক লেনদেনের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন ব্যাংকগুলোর মধ্যে ফারমার্স ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংকের অবস্থা খুবই নাজুক।

বিধি মোতাবেক, ১০ লাখ টাকা ফি দিয়ে নতুন ব্যাংকের অনুমোদন পেতে আবেদন করতে হয়। আর চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে ৪০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন লাগে। তবে এ তিনটি ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৪০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করতে শর্ত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বোর্ডের অনুমোদন পাওয়া ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম শুরু প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বোর্ডের অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যাংককে প্রথমে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসি) থেকে নিবন্ধন নিয়ে কোম্পানি গঠন করতে হবে। এরপর ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী ব্যাংকের জন্য চূড়ান্ত লাইসেন্স দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

"