আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেলের মাটি ফেলা নিয়ে জটিলতা

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ama ami

২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নির্মাণ করা হবে দেশের অগ্রাধিকার প্রকল্প পাঁচটি মেট্রোরেল। এর মধ্যে চলমান উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোরেলের পুরোটাই হবে উড়ালপথে (এলিভেটেড)। তিনটির অর্ধেক হবে মাটির নিচে। আর একটি পুরোটাই হবে মাটির নিচ দিয়ে। তবে এসব মেট্রোরেলের জন্য খনন করা টানেল ও স্টেশনের মাটি ফেলার জায়গা মিলছে না।

ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় মাটি ফেলার জায়গা না পেয়ে জটিলতার মুখে পড়েছে মেট্রোরেল বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। ঢাকার বিভিন্ন রুটে প্রস্তাবিত পাঁচটি মেট্রোরেলের নির্মাণ অগ্রগতি পর্যালোচনা বৈঠকে বিষয়টি উঠে আসে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে জানানো হয়, ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল নির্মাণে সবচেয়ে জটিলতা হবে মাটি অপসারণ ও তার ব্যবহার নিয়ে।

ডিএমটিসিএলের তথ্য মতে, ঢাকায় আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল হবে সড়কের ১৫০ থেকে ২০০ ফুট নিচে। আর স্টেশনগুলোর আকার হবে কয়েক হাজার বর্গফুট ও তিন-চারতলাবিশিষ্ট। এতে আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেলের টানেল ও স্টেশন থেকে প্রচুর মাটি অপসারণ করতে হবে। ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় এত পরিমাণ মাটি ফেলার মতো কোনো নিচু জমি নেই। কিছু স্থানে জলাভূমি থাকলেও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সেখানে মাটি ফেলা সম্ভব নয়। তাই মেট্রোরেলের মাটি ফেলার জন্য একাধিক বিকল্প নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকার জন্য প্রস্তাবিত আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেলগুলোর মাটি অপসারণ ও তা ফেলতে যে ব্যয় হবে তা দিয়ে উড়ালপথে আরেকটি মেট্রোরেল নির্মাণ সম্ভব। পুরো প্রক্রিয়াটি বেশ সময়সাপেক্ষও। তাই কম ব্যয়ে ও সাশ্রয়ী সময়ে কীভাবে মাটি অপসারণ করা যায়Ñ তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সব মহলের মতামত চাওয়া হয়। এক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণও বিবেচনা করা হচ্ছে।

বৈঠকের তথ্য মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে তিন ধাপে ঢাকায় পাঁচটি মেট্রোরেল বা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২০২০ সালের মধ্যে নির্মাণ শেষ করা হবে উত্তরা-মতিঝিল রুটের মেট্রোরেল।

পাঁচটি মেট্রোরেলের মধ্যে ২০২৬ সালে শেষ হবে দ্বিতীয়টি তথা এমআরটি লাইন-১। এর দুটি অংশ রয়েছে। ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেলটির ১৬ দশমিক ২১ কিলোমিটার অংশ হবে মাটির নিচ দিয়ে যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম পাতাল রেল। এছাড়া ২১টি স্টেশনের ১২টি হবে মাটির নিচে। গত ৯ ডিসেম্বর মেট্রোরেলটির বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন শুরু হয়েছে।

ঢাকায় তৃতীয় মেট্রোরেল তথা এমআরটি লাইন-৫ এর নর্দান রুটের দৈর্ঘ্য হবে ১৯ দশমিক ৬০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ৬০ কিলোমিটার মাটির নিচ দিয়ে। আর সাউদার্ন রুটের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭ কিলোমিটার। এর বড় অংশই হবে মাটির নিচে। এছাড়া ৩১টি স্টেশনের অর্ধেকের বেশি হবে মাটির নিচে।

এর বাইরে এমআরটি লাইন-৪ নির্মাণ করা হবে কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথের নিচ দিয়ে। প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মেট্রোরেলের সব স্টেশন হবে মাটির নিচে। আর গাবতলী থেকে চট্টগ্রাম রোড পর্যন্ত প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-২ এর দৈর্ঘ্য হবে ২৪ কিলোমিটার। এর প্রায় অর্ধেক হবে মাটির নিচে।

বৈঠকে জানানো হয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশে আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল নির্মাণকালে অপসারণকৃত মাটি শহরের পার্শ্ববর্তী নদী বা সাগরে ফেলে ল্যান্ড রিক্লেইলম (পাড় পুনর্গঠন) করা হয়।

বিভিন্ন দেশে মেট্রোরেলের মাটি মহাসড়ক নির্মাণেও ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশেও বর্তমানে বেশকিছু মহাসড়ক চার লেন করা হচ্ছে। এজন্য প্রচুর মাটির দরকার হয়। তবে সেগুলোর অবস্থান ঢাকা থেকে অনেক দূরে। এতে মাটি পরিবহন বেশ জটিল, খরচও হবে অনেক বেশি। ফলে এ বিকল্পটিও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন আবাসন প্রকল্প। এসব প্রকল্পের জন্য নিচু জমি ভরাটে প্রচুর বালি ও মাটি দরকার হবে। এক্ষেত্রে আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেলের মাটি সরবরাহ করা যায় কি না তা বিবেচনা করা হচ্ছে। এজন্য আবাসন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

"