২০২৭ সালের মধ্যে আরো দুটি মেট্রোরেল

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর যানজট নিরসনে আরো দুটি মেট্রোরেল নির্মাণ শুরুর প্রস্তুতি চলছে। ২০২৭ সালের মধ্যে এ দুটি চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে মেট্রোরেল বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ এর নর্দান রুট বা উত্তরাংশ শীর্ষক মেট্রোরেল দুটি নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৯১ হাজার কোটি টাকা। এ দুই প্রকল্পে ঋণ সহায়তা দেবে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। এছাড়া মেট্রোরেল দুটির সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়নেও সহায়তা করছে সংস্থাটি।

ঢাকার বিভিন্ন রুটে প্রস্তাবিত পাঁচটি মেট্রোরেলের নির্মাণ অগ্রগতি পর্যালোচনায় সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে জানানো হয়, তিন ধাপে ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় পাঁচটি মেট্রোরেল নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২০২০ সালের মধ্যে নির্মাণ শেষ করা হবে উত্তরা-মতিঝিল রুটের মেট্রোরেল। দ্বিতীয় ধাপে একটি মেট্রোরেলের পূর্ণাঙ্গ ও আরেকটি আংশিক এবং তৃতীয় ধাপে বাকিগুলোর নির্মাণ শেষ হবে।

বৈঠকের তথ্য মতে, পাঁচটি মেট্রোরেলের মধ্যে ২০২৬ সালে শেষ হবে দ্বিতীয়টি তথা এমআরটি লাইন-১। এর দুটি অংশ রয়েছে। একটি অংশ বিমানবন্দর থেকে খিলক্ষেত, যমুনা ফিউচার পার্ক, নতুনবাজার, উত্তর বাড্ডা, বাড্ডা, হাতিরঝিল, রামপুরা, মালিবাগ, রাজারবাগ হয়ে কমলাপুর পর্যন্ত যাবে। এ অংশের দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৬ দশমিক ২১ কিলোমিটার হবে মাটির নিচ দিয়ে যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম পাতাল রেল। বাকি ৩ দশমিক ৬৬ কিলোমিটার হবে উড়ালপথে (এলিভেটেড)। এ অংশে ১২টি স্টেশন থাকবে যার সবই হবে মাটির নিচে।

এমআরটি লাইন-১-এর দ্বিতীয় অংশটি নতুনবাজার থেকে যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা, পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি, পূর্বাচল পশ্চিম, পূর্বাচল সেন্টার হয়ে পূর্বাচল ডিপো পর্যন্ত যাবে। এ রুটের দৈর্ঘ্য ১১ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার, যার পুরোটাই উড়ালপথে। এ রুটে স্টেশন সংখ্যা ৯টি। এর মধ্যে নতুনবাজার স্টেশনে ইন্টারচেঞ্জ থাকবে। এটি ব্যবহারের মাধ্যমে বিমানবন্দর রুট থেকে পূর্বাচল রুটে ও পূর্বাচল রুট থেকে বিমানবন্দর রুটে যেতে পারবেন যাত্রীরা।

দুই অংশ মিলিয়ে ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকা। গত ৯ ডিসেম্বর মেট্রোরেলটির বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন শুরু হয়েছে।

ঢাকায় তৃতীয় মেট্রোরেল তথা এমআরটি লাইন-৫ এর নর্দান রুটের দৈর্ঘ্য হবে ১৯ দশমিক ৬০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ৬০ কিলোমিটার মাটির নিচ দিয়ে ও বাকি ছয় কিলোমিটার উড়ালপথে হবে। এ মেট্রোরেলটি হেমায়েতপুর থেকে বলিয়ারপুর, মধুমতি, আমিনবাজার, গাবতলী, দারুসসালাম, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, কচুক্ষেত, বনানী, গুলশান-২, নতুনবাজার হয়ে ভাটারা যাবে। এ রুটে ১৪টি স্টেশন থাকবে যার ৯টি মাটির নিচে ও পাঁচটি উড়ালপথে হবে। এমআরটি লাইন-৫ এর নর্দান রুটটির নির্মাণ কাজ ২০২৭ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে এমআরটি লাইন-৫ এর সাউদার্ন রুট তথা দক্ষিণাংশ নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩০ সাল। এ অংশটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭ কিলোমিটার যার উড়ালপথ ও মাটির নিচ মিলিয়ে নির্মাণ করা হবে।

এ অংশে মেট্রোরেলটি গাবতলী থেকে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, রাসেল স্কয়ার, পান্থপথ, সোনারগাঁও হোটেল, হাতিরঝিল, নিকেতন, রামপুরা, আফতাবনগর পশ্চিম, আফতাবনগর সেন্টার, আফতাবনগর পূর্ব হয়ে দাশিরকান্দি পর্যন্ত যাবে। এ রুটে ১৭টি স্টেশন থাকবে। এরই মধ্যে এমআরটি লাইন-৫ এর সাউদার্ন রুটের প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১২ সালে নেওয়া হয় এমআরটি লাইন-৬ নির্মাণ প্রকল্পটি। বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন শেষে ২০১৬ সালে এর মূল নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাইকা।

মেট্রোরেলটির উত্তরা নর্থ থেকে আগারগাঁও অংশের দেড় কিলোমিটার ভায়াডাক্ট (উড়ালপথ) নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি অংশের নির্মাণ কাজও চলছে। এছাড়া চলতি বছরে জুনে উত্তরায় এর ডিপো নির্মাণ শেষ হবে। মেট্রোরেলটির ট্রাক (রেলপথ) জুলাইয়ে দেশে আসতে শুরু করবে। আর রোলিং স্টকের (ইঞ্জিন-কোচ) নকশা চূড়ান্ত শেষে নির্মাণ কাজ শুরু করবে জাপানের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

"