বাণিজ্য মেলা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী

অঞ্চলভিত্তিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ama ami

সরকারি মজুরি কাঠামো বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন পোশাক শ্রমিকরা। শ্রমিকদের এই আন্দোলনের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, নতুন স্যালারি (বেতন) যুক্ত হতে বাস্তবায়ন যাচ্ছে এ মাসে। কোনো কিছু নতুন নতুন শুরু করতে গেলে কোনো ব্যাপারে কিছু কিছু আপত্তি থাকে। ক্লিয়ারিফিকেশনের কিছু ব্যাপার থাকে। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন নির্ভর পণ্যভিত্তিক যেসব সম্ভাবনা আছে সেগুলো কাজে লাগাতে চান নতুন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

এদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ আয়োজনে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা আজ শুরু হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বিকেল ৩টায় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। টিপু মুনশি বলেন, মেলায় বিভিন্ন ডাইভার্সিটি (বিচিত্রতা) ছাড়াও মানুষের বিনোদনেরও একটা বিষয় থাকে। অসংখ্য মানুষ আসবে দেখবে ঘুরে বেড়াবে। এ বিষয়গুলো মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে।

দেশের পোশাক শ্রমিকরা কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ করছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, গত সোমবার আমি বিজিএমইএর প্রেসিডেন্ট, সাবেক প্রেসিডেন্ট, একজন সংসদ সদস্যসহ পোশাক শিল্পের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। গত সোমবার সবাই আমরা একসঙ্গে ছিলাম।

টিপু মুনশি বলেন, সবে দায়িত্ব নিলাম। মাথায় কিছু আইডিয়া আছে। সেই আলোকে কাজ করে যাব। তার মধ্যে ময়মনসিংহে যেমন মাছ চাষ হয় সেই মাছ উৎপাদন বাড়ানো, সেই সঙ্গে অত্র এলাকার জন্য হিমাগার তৈরি করা। রংপুর অঞ্চলে ধান, গম, আলুসহ যেসব কৃষি পণ্য হয় সেসব নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ৯ জানুয়ারি শুরু হয়ে মেলা চলবে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা শুরু হয়ে মেলা চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৩০ টাকা ও অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ২০ টাকা টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো এবার মেলার টিকিট অনলাইনে পাওয়া যাবে।

জানা যায়, এ বছর মেলায় মা ও শিশু কেন্দ্র, শিশুপার্ক, ই-পার্কসহ পর্যাপ্ত এটিএম বুথ থাকছে। আরো থাকছে তৈরি পোশাক, হোমটেক্স, ফেব্রিকস, হস্তশিল্প, পাট-পাটজাত পণ্য, গৃহস্থালি ও উপহারসামগ্রী, চামড়া-চামড়াজাত পণ্য, তৈজসপত্র, সিরামিক, প্লাস্টিক পণ্য, পলিমার পণ্য, কসমেটিকস হারবাল ও প্রসাধনী সামগ্রী। থাকবে খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, ইমিটেশন ও জুয়েলারি, নির্মাণসামগ্রী ও ফার্নিচারের স্টল। মেলায় সংরক্ষিত মহিলা স্টল থাকছে ২০টি, প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ৬০টি, প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন ৩৮টি, সাধারণ প্যাভিলিয়ন ১৮, সাধারণ মিনি প্যাভিলিয়ন ২৯টি, প্রিমিয়ার স্টল ৬৭টি, রেস্টুরেন্ট তিনটি, সংরক্ষিত প্যাভিলিয়ন ৯টি, সংরক্ষিত মিনি প্যাভিলিয়ন ৬টি, বিদেশি প্যাভিলিয়ন ২৬টি, সংরক্ষিত বিদেশি মিনি প্যাভিলিয়ন ৯টি, বিদেশি প্রিমিয়াম স্টল ১৩টি, সাধারণ স্টল ২০১টি ও ফুড স্টল ২২টি। এ পর্যন্ত ৬০৫টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মেলায় বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ভোক্তা অধিদফতরের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে। থাকবে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের মেলায় ২২টি দেশের ৫২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। দেশগুলো হল- থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্থান, হংকং, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান।

"