ব্যাংক খাতে ব্যাপক সংস্কার করতে হবে : পরিকল্পনামন্ত্রী

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ব্যাংক খাতে নীতির দুর্বলতা ছিল না। তবে ব্যাংকিং খাতে কিছু ওভার সাইড (নজরদারি) দুর্বলতা রয়েছে। যদি শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা থাকত তাহলে এসব ঘটনা ঘটত না। তাই এই খাতের ব্যাপক সংস্কার করতে হবে। এই সংস্কার এখন সময়ের দাবি, সংস্কারের বিকল্প নেই বলে মনে করেন তিনি।

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনের এনইসির সম্মেলনকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, তবে একটি খাতের (আর্থিক খাত) জন্য দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে খুব একটা প্রভাব পড়বে না। গত অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ব্যাংক খাতে মূল্য সংযোজন ৭১ হাজার ৭৫৪ কোটি টাকা; যা জিডিপির মাত্র ২ দশমিক ৯৭ শতাংশের সমান। তবে সরকার সব বাধা দূর করে প্রবৃদ্ধি অর্জন বাড়াতে চায়। তাই আগামীতে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী যেকোনো খাতকে ঢেলে সাজানো হবে বা সংস্কার করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ১০ বছরে ব্যাংক খাতের ১০টি বড় কেলেঙ্কারিতে লোপাট হয়েছে ২২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। এসব কেলেঙ্কারি ঘটেছে মূলত সরকারি ব্যাংকে। সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক গ্রুপ দিয়ে শুরু হলেও সবচেয়ে বেশি কেলেঙ্কারি ঘটেছে জনতা ব্যাংকে। আরো রয়েছে বেসিক ও ফারমার্স ব্যাংকের অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা। গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) গতকাল শনিবার এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, উন্নত বিশ্বে সরকার পরিবর্তন হলেও অর্থনৈতিক অগ্রগতি থেমে থাকে না কারণ তারা পূর্ববর্তী সরকারের কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে। এক সরকারের কাজ অন্য সরকার ভালোভাবে বাস্তবায়ন করে। কিন্তু আমাদের দেশে এর উল্টো হয়ে থাকে। আমাদের দেশের সংস্কৃতি অন্যরকম, তাই উন্নয়ন ধরে রাখতে আমাদের সরকারের ধারাবাহিকতা রাখা প্রয়োজন।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন মসৃণ করার জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা প্রয়োজন। হোলি আর্টিজানের ট্র্যাজেডি না হলে মেগা প্রকল্পগুলো আরো দৃশ্যমান হতো।

তিনি আরো বলেন, তবে দিন দিন অনেক পরিবর্তন হয়ে আমাদেরও মন মানসিকতা উন্নত হচ্ছে। এবারের নির্বাচনের আগের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও তার অনেকটা প্রমাণ বহন করে। সব রাজনৈতিক দল অত্যন্ত সুন্দরভাবে ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। আমরাও একদিন সেই উন্নত জায়গাতেই পৌঁছে যাব। সে পর্যন্ত আমাদের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে যেতে হবে। তাই দেশের অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাবাহিকতার জন্যই বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

এডিপি প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের গত পাঁচ মাসে সর্বকালের সর্ববৃহৎ এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছে। আমরা এ বছর এডিপি পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়নে স্বার্থক হব। ফলে জিডিপি ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৩০ হবে। ২০২১ সালের মধ্যে প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ হবে। প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন আগামী ৩ বছরের মধ্যে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে ১০ ভাগের কাছাকাছি। আমরা যদি ১০ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারি তাহলে উন্নয়নের হাত ধরে আমাদের দারিদ্র্যের হার অনেক কমে যাবে। শিক্ষার আরো উন্নতি হবে, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সব খাতেই উন্নয়নের রোল মডেল। দেশে এখন বিদ্যুৎ ঘাটতি নেই। দেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থানও বাড়বে। রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে। সব খাতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখলে সব খাতে ভালোভাবে পৌঁছাতে পারব। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও উন্নয়ন হচ্ছে। ২০৩০ সালে দেশে দারিদ্র্য থাকবে না। ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা গেলে রেভিনিউ কালেকশন কলেবর বাড়ত। গত ১০ বছরে কর্মসংস্থান বেড়েছে, সামনে আরো বাড়বে। এখন আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রতি বছর ৪০ থেকে ৫০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। আর এটি সৃষ্টি হবে শুধু ফরমাল খাতে। এর পাশাপাশি আমরা প্রতিষ্ঠা করছি ১০০টি স্পেশাল ইকনোমিক জোন। এগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমাদের কর্মসংস্থান অত্যন্ত গতিশীল হবে, বিদেশি কর্মসংস্থান ব্যাপক হারে চলমান রয়েছে। পাশাপাশি আমাদের সেবা খাত অনেক বিকশিত। এ সেবা খাতের বা আইসিটি খাতের মাধ্যমে আরো অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারব। আমাদের আইসিটি খাতের শক্তিশালী ভিত্তি আমরা এরই মধ্যে তৈরি করে ফেলেছি। আগামীতে এটি পূর্ণমাত্রায় বিকশিত হয়ে আরো বেশি গতিশীল হবে। যার মাধ্যমে অর্থনীতি আরো বেশি বেগবান হবে বলে জানান তিনি।

"