পরিত্যক্ত প্লাস্টিক জঞ্জাল রফতানি

বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন গোবিন্দগঞ্জের ব্যবসায়ীরা

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

শামীম রেজা ডাফরুল, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা)

দৈনন্দিন কাজে ব্যবহারের পর পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল, প্লাস্টিকের ভাঙা আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন পলিথিন জাতীয় আবর্জনা প্রসেসিংয়ের পর চীন-ভারতসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জের কয়েকজন ব্যবসায়ী। পাশাপাশি এসব কারখানায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে ওই এলাকার কয়েকশ মানুষ। সেই সঙ্গে এসব পরিত্যক্ত বোতল ও আবর্জনা সংগ্রহের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে জানা গেছে।

ব্যবহারের পর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পরিবেশ নষ্টকারী প্লাস্টিকের বোতল বিভিন্ন কোমলপানির ছুড়ে ফেলা বোতল, প্লাস্টিকের ভাঙা আসবাবপত্র, পরিত্যক্ত পলিথিন, ওষুধের বোতল ইত্যাদি প্লাস্টিক জঞ্জাল টাকার বিনিময়ে কেজি দরে সংগ্রহ করে এখানে গড়ে ওঠা প্লাস্টিক রিসাইক্লিনিং কারখানা কর্তৃপক্ষ। সংগৃহিত বোতল ও পলিথিনগুলো রং এবং কোয়ালিটি অনুযায়ী বাছাই করা হয়। এরপর এসব বোতল ওয়াসপ্লান্টের মাধ্যমে পরিষ্কার ও প্রসেসের মাধ্যমে ছোট ছোট টুকরা করে শুকিয়ে প্যাকেট করা হয়। তারপর চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে রফতানির মাধ্যমে প্রতি বছর বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন ব্যবসায়ীরা। আবার এসব প্রসেস করা প্লাস্টিক ডাস্ট দেশের স্বনামধন্য প্লাস্টিকসামগ্রী তৈরির কারখানায় সরবরাহের মাধ্যমে বিদেশ থেকে প্লাস্টিক কাঁচামাল আমদানি নির্ভরতার কমিয়ে দিয়েছে।

এই প্লাষ্টিক কারখানা গুলিতে এলাকার শত শত পরিবারের নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। পাশপাশি পরিত্যক্ত বোতল ও আবর্জনা সংগ্রহের মাধমে পরিবেশ সুরক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা হচ্ছে।

মহিমাগঞ্জের এমেক্স রিসাইক্লিনিং কারখানার ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই ফ্যাক্টরিতে প্রায় ৩০০ জন বেকার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন ভাংরি ব্যবসায়ীর মাধ্যমে বোতল ও প্লাস্টিকের পরিত্যক্ত সামগ্রী সংগ্রহ করে রিসাইক্লিনিং করে পরিস্কারের পর আমরা সরাসরি ভারত ও চায়নাতে রফতানি করি। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পরোক্ষ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তিনি আরো জানান, প্রকারভেদে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকসামগ্রী ২০ হাজার থেকে শুরু করে ৪০ হাজার টাকা প্রতিটন কেনা হয়। পরে তা শ্রমিকদের দিয়ে বাছাই, পরিস্কার ও মেশিনের মাধ্যমে প্লাস্টিক চিপস তৈরি করে প্যাকেটে ভরে প্রকারভেদে ৫০ হাজার টাকা থেকে ৭০ হাজার টাকা প্রতিটন দরে বিদেশে রফতানী করা হয়।

পাশ্ববর্তী সাহেববাজার এলাকার মুন্সী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হাদি মুন্সী জানান, ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র নিয়ে এসে লেবার দিয়ে পরিষ্কার করে মেশিন দিয়ে ভেঙে বস্তাভর্তি করে বিক্রি করা হয়। এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক চিপসগুলি বড় বড় ব্যবসায়ীরা চীন ভারত সহ বিভিন্ন দেশে রফতানি করে বিদেশী মুদ্রা অর্জন করছেন। পাশাপাশি বেশ কিছু মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এই কাজে। এখানে কর্মরত শ্রমিকরা প্রতিদিন ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা মজুরি পান। ফলে তারা পরিবার নিয়ে জীবিকা নির্বাহের একটি নির্ভরযোগ্য কর্মসংস্থান খুঁজে পেয়েছেন।

নাম বিহীন অপর একটি রিসাইক্লিং কারখানায় কর্মরত একব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা এখানে সংগ্রহকৃত বোতল ও অন্যান্য প্লাস্টিক দ্রব্য রিসাইক্লিনিং করে পার্শ্ববর্তী বড় কারখানার কাছে বিক্রি করেন। তার এখনেও প্রতিদিন প্রায় ৫০জন শ্রমিক কাজ করেন।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামকৃষ্ণ বর্মন বলেন, এই ধরণের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। চাইলে যে কোন ধরণের সহযোগিতা দেওয়া হবে। প্লাস্টিকের পরিত্যক্ত জঞ্জাল নিয়ে পরিবেশের ক্ষতির যে আশংকা ছিল এসব কারখানা তা কিছুটা লাঘব করবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

 

"