বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বিনিয়োগ সম্প্রসারণে এফটিএ স্বাক্ষরের আহ্বান

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিনিয়োগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অতি দ্রুত দু’দেশের মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি আবুল কাসেম খান। বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার নূর আশিকিন বিনতে মোহাঃ তায়ীব গতকাল ডিসিসিআই সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআই সভাপতি এই আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে মালয়েশিয়ার হাইকমিশানর বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেশ উল্লেখজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটা ধরে রাখার জন্য বিদ্যমান অবকাঠমো খাতের সংস্কার ও উন্নয়ন আরো তরান্বিত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যের পরিসংখ্যানে প্রতীয়মান হয় যে, মালয়েশিয়া বেশ এগিয়ে রয়েছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক প্রদত্ত ‘ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট’ অনুযায়ী মালয়েশিয়া ব্যবসা পরিচালনার সূচকে ২০তম স্থান হতে ১৫তম স্থানে উঠে এসেছে। বৈদেশিক বিনিয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বাংলাদেশের ব্যবসা পরিচালনা সূচকে আরো উন্নতি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

হাইকমিশনার আরো বলেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বাজার সবচাইতে বৃহৎ এবং এক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার বাজারে হালাল পণ্য রফতানির জন্য বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসতে হবে বলে জানান তিনি। এসময় আশিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোতে বাংলাদেশি পণ্য রফতানি ও বিনিয়োগের জন্য এদেশের ব্যবসায়ীদের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।

ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্য প্রবেশ দ্বার হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। এজন্য বাংলাদেশকে আশিয়ানের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্তির জন্য মালয়েশিয়ার সরকারের সহায়তা কামনা করছি। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, মালয়েশিয়ার বাজারে হালাল পণ্য রফতানির বিষয়টি বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বিশাল সম্ভাবনার বিষয়।

বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে হালাল পণ্য রফতানির সার্টিফিকেট প্রদান প্রক্রিয়া চালু করতে এদেশের বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিবৃন্দকে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য মালয়েশিয়ার সরকারের প্রতি আহবনান জানান তিনি। এছাড়াও বাংলাদেশে অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, পর্যটন এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য প্রভৃতি খাতে আরো বেশি হারে বিনিয়োগের জন্য মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 

"