বাংলাদেশে ‘কার্বন ট্যাক্স’ আরোপের চিন্তা করা হচ্ছে : মুহিত

প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশে কার্বন ট্যাক্স আরোপের চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের ওয়েস্টিন হোটেলে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের সম্মেলনের চতুর্থ দিন শনিবার ‘ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন মন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুহিত বলেন, ‘বৈঠকে কার্বন ট্যাক্স নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ এখনও কার্বন ট্যাক্স আরোপ করেনি। তবে কার্বন বোনাস পায় বাংলাদেশ। বছরে প্রায় চার কোটি ২০ লাখ ডলার বোনাস হিসেবে আসে।’ পরিবেশবান্ধব শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই বোনাস পায় বলে জানান তিনি। কার্বন কর বা কার্বন ট্যাক্স হল জ্বালানি ব্যবহারের ফলে নির্গত কার্বনের উপর ধার্যকৃত কর বা ট্যাক্স। কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপাদনের জন্য তথা পরিবেশ দূষিত করার জন্য জ্বালানি ব্যবহারকারীকে যে ট্যাক্স দিতে হয় প্রথাগতভাবে তাই কার্বন ট্যাক্স হিসেবে গণ্য কর হয়। পেট্রল, ডিজেল, কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাসসহ প্রায় সকল জীবাশ্ম জ্বালানিতেই কার্বন বিদ্যমান এবং তা পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদন করলে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়। কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কার্বন মনো অক্সাইড নির্গত হয়ে পরিম-লে ছড়িয়ে পড়লে তা পৃথিবীর তাপকে ধরে রাখে যার ফলে পৃথিবীত তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে পৃথিবীর নিম্নাংশ প্লাবিত করে দিতে পারে। একে গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া বলে। যেহেতু কার্বনের নিঃসরণই এই প্রতিক্রিয়ার প্রধান কারণ, তাই কার্বনসম্পন্ন জ্বালানি ব্যবহারের ওপর অনেক উন্নত দেশে কর আরোপ করা হয়। বালিতে আসার আগে কার্বন ট্যাক্স কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায় সে বিষয়ে দেশের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কাছে পরামর্শ চেয়েছেন জানিয়ে মুহিত বলেন, প্রস্তাব পেলে পর্যালোচনা করে দেখা হবে।

 

দেশে ফিরে এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করবো।

“আর বাংলাদেশ থেকে ক্লোরো ফ্লোরো কার্বন (সিএফসি) দূর হয়েছে। আমাদের দেশে রেফ্রিজারেটর কিংবা অন্যান্য পণ্যে এখন আর সিএফসি থাকে না।”

সম্মেলন উপলক্ষে বিভিন্ন দেশ থেকে অসা অর্থমন্ত্রীরা বৈঠকে অংশ নেন। তবে সেখানে কয়েকবার চেষ্টা করেও নিজের বক্তব্য রাখার সুযোগ পাননি তিনি।

পরে ক্ষুব্ধ মুহিত সাংবাদিকদের বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশ বিশ্বনেতা। অন্য কোন উন্নয়নশীল বা উন্নত দেশের এই অভিজ্ঞতা নেই। ১৯৯২ সালে ব্রাজিলে জলবায়ু সম্মেলনের পরপরই আমি বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) গড়ে প্রেসার গ্রুপ তৈরি করেছি। বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলা করে যাচ্ছে।

“অথচ আমাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হলো না। এখানে মূলত দাতারা যেসব দেশে কাজ করছে সেসব দেশকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক।”

সারা দিন ব্যস্ত সময় কাটান অর্থমন্ত্রী

বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট এবং ‘ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ নিয়ে মন্ত্রী পর‌্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়া ছাড়াও আরও কয়েকটি বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী।

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সদস্যভুক্ত দেশগুলোর ঋণ ঝুঁকি নিয়ে এক সেমিনারে যোগ দেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে মুহিত বলেন, “অতিরিক্ত ঋণের কারণে ৩০টি দেশ ঝুঁকিতে রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের অবস্থা খুবই ভালো। আমাদের ঋণ জিডিপির অনুপাত মাত্র ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশ বিদেশ থেকে সহজ শর্তে ঋণ নেয়। কঠিন শর্তের ঋণ যা নেওয়া হয়, তা দেশের ভেতর থেকেই নেওয়া হয়।”

পরে জাপান ব্যংক ফর ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশনের (জেবি আইসি) ডেপুটি গভর্নর নোবুমিটসু হেয়াসির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “ব্যাংকটি আমাদের পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার উন্নয়নে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার ঋণ সহায়তা দিচ্ছে। এছাড়া সরকরি-বেসরকারি অংশিদারিত্ব (পিপিপি) প্রকল্পে বিনিয়োগের ব্যাপারেও আগ্রহ দেখিয়েছে।”

এছাড়া আইএমএফের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী।

এই ঠৈকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মুহিত বলেন, “ঠৈকে আইএমএফ কর্মকর্তারা বলেছে, এই অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের যে সম্ভাবনা ছিল, বিভিন্ন কারণে তা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

“এর মধ্যে অন্যতম হলো- ইন্দোনেশিয়ার সুনামি, বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে সকল দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশও এই ঝুঁকির বাইরে নয়।”

তবে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন ‘সুযোগ’ বয়ে নিয়ে আসতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্ব আর্থিক খাতের মোড়ল এ দুই সংস্থার সম্মেলন রোববার শেষ হচ্ছে। ইতোমধ্যেই সম্মেলনে ভাঙনের সুর বেজে উঠছে। অনেক দেশের প্রতিনিধিরাই সম্মেলনস্থল ত্যাগ করতে শুরু করেছেন।

 

"