১০ বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৪ গুণ

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত ১০ বছরে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩ দশমিক ৫৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার পথে অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি) তথ্য অনুযায়ী প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত দেশে পাঠিয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৮৫৯ দশমিক শূন্য ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই অর্থ পূর্ববর্তী ১০ বছরের চেয়ে ৯৪ হাজার ৮২২ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ডলার বেশি। অনাবাসিক বাংলাদেশিরা (এনআরবি) ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছর থেকে ২০০৭-০৮ অর্থবছর পর্যন্ত পাঠিয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার ৩৬ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সমন্বয়ে গৃহীত নানা পদক্ষেপের কারণে এই রেমিট্যান্স প্রবাহে গত দুই বছরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। বিদেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে বিদেশে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে বলে জানান তিনি।

সূত্র জানায়, দেশে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজতর হয়েছে এবং বর্তমানে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে বাংলাদেশি প্রবাসীরা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস সুবিধাও পাচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সকরারি তথ্য অনুযায়ী চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে অভিবাসী শ্রমিকরা ২ হাজার ৭২৯ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে।

অপরদিকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পাঠিয়েছে ১৪ হাজার ৯৮১ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন ডলার, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১২ হাজার ৭৬৯ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন ডলার, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৯৩১ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলার, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৫ হাজার ৩১৬ দশমিক ৯১ মিলিয়ন ডলার, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১৪ হাজার ২২৮ দশমিক ২৬ মিলিয়ন ডলার, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৪৬১ দশমিক ১৪ মিলিয়ন ডলার, ২০১১-১২ অর্থবছরে ১২ হাজার ৮৪৩ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলার, ২০১০-১১ অর্থবছরে ১১ হাজার ৬৫০ দশমিক ৩২ মিলিয়ন ডলার, ২০০৯-১০ অর্থবছরে ১০ হাজার ৯৮৭ দশমিক ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ৯ হাজার ৬৮৯ দশমিক ২৬ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে।

এনআরবি ২০০৭-০৮ অর্থবছরে পাঠিয়েছে ৭ হাজার ৯১৪ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন ডলার, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ৫ হাজার ৯৯৮ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন ডলার, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৪ হাজার ৮০২ দশমিক ৪১ মিলিয়ন ডলার, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ৩ হাজার ৮৪৮ দশমিক ২৯ মিলিয়ন ডলার, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে ৩ হাজার ৩৭১ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন ডলার, ২০০২-০৩ অর্থবছরে ৩ হাজার ৬১ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন ডলার, ২০০১-০২ অর্থবছরে ২ হাজার ৫০১ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ডলার, ২০০০-০১ অর্থবছরে ১ হাজার ৮৮২ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলার, ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে ১ হাজার ৯৪৯ দশমিক ৩২ মিলিয়ন ডলার এবং ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে ১ হাজার ৭০৫ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছে।

"