অর্থবছরের প্রথম মাস

বাণিজ্য ঘাটতি ১১৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

আমদানি ব্যয় বেড়েই চলেছে। এর বিপরীতে বাড়ছে না রফতানি আয়। এতে বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই শেষে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১১৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১০৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ।

প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছর প্রথম মাসে ইপিজেডসহ রফতানি খাতে বাংলাদেশ আয় করেছে ৩৫২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আমদানি বাবদ ব্যয় করেছে ৪৭০ কোটি ডলার। এ হিসাবে বাণিজ্য ঘাটতির দাঁড়িয়েছে ১১৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার। যা বর্তমান বিনিময় হার (৮৪ টাকা) অনুযায়ী ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বেশি।

প্রন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়। সেই হিসাবে উন্নয়নশীল দেশের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকা ভালো। সর্বশেষ জুলাই শেষে ২৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার (-) ঋণাত্মক হয়েছে। যা এর আগের অর্থবছরে ছিল ৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অন্যদিকে, আলোচিত সময়ে সেবাখাতে বেতনভাতা বাবদ বিদেশিদের পরিশোধ করা হয়েছে ৮০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আর বাংলাদেশ এই খাতে আয় করেছে ৫৫ কোটি ডলার। এ হিসাবে সেবায় বাণিজ্যে দেশে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার। যা গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল (ঘাটতি) ৪১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। প্রতিপ্রেণ অনুযায়ী, আলোচিত সময়ে দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে ২৪ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ৮ দশমিক ১১ শতাংশ বেশি। এদিকে এফডিআই বাড়লেও দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে শেয়ারবাজারে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। যা তার আগের অর্থবছরে ছিল ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি ব্যয় বাড়লেও সে অনুযায়ী বাড়ছে না রফতানি আয়। ফলে বাড়ছে বাণিজ্যের ঘাটতির পরিমাণ। এতে করে চাপে পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা। তাদের মতে দেশে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্র্যৎকেন্দ্র নির্মাণ কাজ চলছে। এসব বড় বড় প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানি বেড়ে গেছে। এছাড়াও শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনীয় যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি বেড়েছে। এসব কারণেই বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়েছে। তবে এই ঘাটতি মেটানো হয় রেমিট্যান্স ও বিদেশি বিনিয়োগ দিয়ে। রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বিদেশী বিনিয়োগ ইতিবাচক ধারায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

"