কৃষি পণ্যের মূল্য নিশ্চিতে ২৮ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। গত বছর বন্যার কারনে কিছু সমস্যা হয়েছিল, সে কারনে খাদ্য আমদানির ক্ষেত্রে কিছু সময়ের জন্য আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছিল। দেশের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কৃষি পণ্যের উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করতে আবারো ২৮ ভাগ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী গতকাল ঢাকায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ জাতীয় কনভেনশন এবং ইন্টারন্যাশনাল সেমিনারের দ্বিতীয় দিনে ‘ইমার্জিং ফুড সিসটেম ঃ ভেল্যু এডিশন, সাপলাই চেইন এন্ড ফুড সেফটি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের খাদ্যের অভাব ছিল, আজ দেশে ১৬ কোটির বেশি মানুষ, খাদ্যের কোন অভাব নেই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দু‘টি উদ্দেশ্য নিয়ে সারা জীবন সংগ্রাম করে গেছেন। একটি হলো বাঙ্গালি জাতির মুক্তি অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতা, অপরটি হলো, ক্ষুধা ও দরিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ গড়া। তিনি বাংলাদেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। আজ তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে ক্ষুধা ও দরিদ্রমুক্ত করার জন্য সফল ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। একসময় যারা বাংলাদেশকে বলতো- তলাবিহীন ঝুড়ি, বিশে^র মধ্যে দরিদ্র দেশের মডেল। আজ তারাই বলছেন বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মডেল। গত ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে দেশে ৪০৭ দশমিক ১৪ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য উৎপাতি হয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারনে দেশের আবাদি জমির পরিমান কমলেও কৃষিবান্ধব শেখ হাসিনার সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও গৃহীত পদক্ষেপে খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে গঠিত সরকারের আমলেই বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল, পরবর্তীতে বিএনপি সরকার আবার দেশকে খাদ্য ঘাটতির দেশে পরিনত করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে বৈদেশিক সাহায্য নির্ভর রাখা। বিশে^র মধ্যে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। কিছুদিন আগেও বাংলাদেশ শ্রীলংকায় ৫০ হাজার মেট্রিকটন চাউল রফতানি করেছে, নেপালে দুর্যোগের সময় ১০ হাজার মেট্রিক টন চাউল প্রেরণ করেছে। বাংলাদেশ আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ডিজিটাল মধ্য আয়ের দেশ। বাংরাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে প্রবেশের প্রথম ধাপ তিন শর্ত পূরণ করে অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন আজ বিশ^বাসীর কাছে অনুরকরনীয় হয়েছে। বাংলাদেশের গ্রাম আজ শহরে পরিনত হয়েছে। গ্রামের মানুষ আজ শহরের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য বার বার চেষ্টা করা হয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য দিনরাত নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যাঞ্জেলর প্রফেসর ড. মো. আলী আকবরের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিষয় ভিত্তিক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. এসপি গুপ্ত, খুলনা বিশ^বিদ্যারয়ের সাবেক ভাইস চ্যাঞ্জেলর প্রফেসর ড. সাইফুিদ্দন শাহ এবং ড. কাটিনকো ডি বালাগ। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষিবিদ এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাসিম,এমপি।

"