ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াতে হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘আমাদের ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। কারণ আমরা অনেক সময় মনে করি ব্যবসায়ীরা মনে হয় ভালো আছেন। কিন্তু তা নয়, একটা ব্যবসার শুরুতেই ঋণখেলাপি হতে হয়। তাই তাদের কষ্ট আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। এছাড়া ব্যবসায়ীদের নগদ সহায়তা দিতে হবে। মনে রাখতে হবে তাদের যদি আমরা ১ টাকা নগদ সহায়তা দেই তারা আমাদের অনেক বেশি ফেরত দেবেন।’

গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে সিআইপি (বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে ২০১৫ সালে রফতানি ও বাণিজ্যে বিশেষ অবদানের জন্য ১৩৬ ব্যবসায়ীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রফতানিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৯৪ জন এবং পদাধিকার বলে ট্রেড ক্যাটাগরিতে এফবিসিসিআইয়ের ৪২ জন পরিচালক সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমি জাতীয় সংসদে বলেছি, এবার ৩৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এটা আমরা করিনি, করেছেন ব্যবসায়ীরা। এজন্য তাদের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চামড়া ছাড়া সব পণ্য রফতানি বেড়েছে। সাভারের নতুন চামড়া শিল্প পার্কে এখনো আমরা সব ব্যবসায়ীর পক্ষে অবস্থান নিতে পারিনি। এখনো আমরা সিইটিপি (কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার) প্রস্তুত করতে পারিনি।’

তিনি আরো বলেন, ব্যবসায়ীদের নগদ সহায়তা দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, তাদের যদি আমরা ১ টাকা নগদ সহায়তা দেই তারা আমাদের অনেক বেশি ফেরত দেবেন। নগদ সহায়তা প্রাপ্ত পণ্যের তালিকায় আরো নতুন ৯টি পণ্য সংযোজন করা হয়েছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, কিছু কিছু আমলা শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারেন। তারা মনে করেন টাকা মন্ত্রণালয়ের। এই টাকা তারা খরচ করতে চান না। কিন্তু এই টাকা আমাদের। ব্যবসা-বাণিজ্য তথা দেশের উন্নয়নের জন্য এই টাকা খরচ করতে হবে বলে জানান তিনি। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, আমাদের রফতানি বেড়েছে। তবে পণ্য বহুমুখীকরণে আমরা পিছিয়ে আছি। এদিকে নজর দিতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে চেষ্টা করে লাভ হবে না। এজন্য সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

এফবিসিসিআই সভাপতি আরো বলেন, বিভিন্ন দেশে কমার্শিয়াল কাউন্সিলর পাঠানো হয়, তাদের টার্গেট দিতে হবে। একইসঙ্গে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, বিভিন্ন দেশে অনেক মেলার আয়োজন করা হচ্ছে, এর সংখ্যা কমিয়ে এনে মানসম্মত মেলার আয়োজন করতে হবে। কারণ কবুতরের খোপে বসে সময় নষ্ট করতে চাই না আমরা।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য সচিব সুভাশীষ বসু, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক হাসিনা নেওয়াজ ও ইনসেপ্টা ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মোক্তাদির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য।

প্রসঙ্গত, নির্বাচিত সিআইপিরা এক বছর পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। সিআইপি কার্ডের মেয়াদকালীন বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য প্রবেশপত্র সংবলিত গাড়ির স্টিকার পাবেন। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান ও মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ পাবেন। ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিমান, রেল, সড়ক ও জলযানে আসন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। সিআইপিদের জন্য ব্যবসা সংক্রান্ত কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসা প্রাপ্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে উদ্দেশ্য করে ‘লেটার অব ইনট্রোডাকশন’ ইস্যু করবে। সিআইপিরা বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ-২ ব্যবহারের সুবিধা পাবেন। সিআইপি ব্যক্তিরা নিজের ও স্ত্রী, পুত্র, কন্যার চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে কেবিন সুবিধার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।

"