বিনিয়োগকারীর কাছে মঙ্গলবার শেয়ার হস্তান্তর করবে ডিএসই

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনের দুই প্রতিষ্ঠান সেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ কনসোর্টিয়ামের (জোট) কাছে আগামীকাল মঙ্গলবার শেয়ার হস্তান্তর করবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। এই শেয়ার হস্তান্তরের আগের দিন অর্থাৎ আজ সোমবার ডিএসইর শেয়ার পেতে অর্থ পরিশোধ করবে চীনা জোটটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, সোমবার ডিএসইর শেয়ার পেতে অর্থ পরিশোধ করবে জোটটি। এ জন্য চীনের সাংহাই ও সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জকে নিটা অ্যাকাউন্ট (বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ টাকায় রূপান্তরের বিশেষ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট) খোলার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে এই অ্যাকাউন্ট খুলে ডিএসইর শেয়ারের জন্য অর্থ পরিশোধ করবে চীনা জোট।

জানা যায়, সোমবার চীনের সাংহাই ও সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ জোট কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে ডিএসইর শেয়ার পেতে অর্থ পরিশোধের পর মঙ্গলবার বোর্ড সভা করবে ডিএসই। সকালে অনুষ্ঠিত ওই বোর্ড সভায় জোটটির একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন, যিনি পরবর্তীতে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হবেন। বোর্ড সভার মাধ্যমেই শেয়ার হস্তান্তরের সার্বিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এরপর দুপুরে হোটেল সোনারগাঁওয়ে শেয়ার হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক চীনের সাংহাই ও সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ জোটকে নিটা অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই অনুমতির বিষয়টি পরের দিন ২৭ আগস্ট ডিএসই থেকে জোটটিকে জানানো হয়। এদিকে, কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে গত ১৪ মে চীনা জোটের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে ডিএসই। ওই চুক্তি অনুযায়ী, কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনা জোট ডিএসইর ২৫ শতাংশ বা ৪৫ কোটি ৯ লাখ ৪৪ হাজার ১২৫টি শেয়ার কিনবে। এ জন্য প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ২১ টাকা দরে মোট ৯৪৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা পরিশোধ করবে সাংহাই ও সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ জোট। ডিএসইর শেয়ারের বিপরীতে চীনা জোটের দেওয়া অর্থ ডিএসইর সদস্য ব্রোকারদের ভাগ করে দেওয়া হবে। বর্তমানে ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন ২৩৭ ব্রোকার।

জানা যায়, চীনা জোটটিকে ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চলতি বছরের ৩ মে অনুমোদন দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। অবশ্য এ অনুমোদনের সঙ্গে বেশকিছু শর্তও জুড়ে দেয় বিএসইসি। এর মধ্যে রয়েছে, কৌশলগত বিনিয়োগকারীর সকল কার্যক্রম সিকিউরিটিজ আইন ও দেশের প্রযোজ্য অন্যান্য আইনসহ এক্সচেঞ্জেস ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন ২০১৩ এবং ডিএসইর ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম অনুযায়ী, পরিপালন করতে হবে। চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করে কমিশনকে অবহিত করতে হবে। কমিশনের পূর্ব অনুমোদন ব্যতীত চুক্তির শর্তাবলি ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয় পরিবর্তন করা যাবে না।

"