নিরাপদ ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় জনপ্রিয় হচ্ছে এজেন্ট ব্যাংকিং

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকি সেবা পৌঁছে দিচ্ছে এজেন্ট ব্যাংকিং। ফলে এই সেবাটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এতে বেড়েই চলছে গ্রাহক সংখ্যা। ব্যয় সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় প্রতিনিয়ত এর প্রসার ঘটছে। এ বছরের জুন পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ১৭ ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ১৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ জন ব্যাংক হিসাব খুলেছেন। এর মধ্যে গ্রামের মানুষ ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৩৭৭ জন। গত জুন পর্যন্ত শহরে ২ লাখ ৩৭ হাজার ২৩ জন ব্যাংক হিসাব খুলেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকের ১৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ গ্রাহক হিসাব খুলেছেন। লেনদেন হয়েছে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই সময়ে মোট স্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। রেমিট্যান্স সংগ্রহের পরিমাণ ৩ হাজার ৫১৪ কোটি ২২ লাখ টাকা, ঋণ বিতরণের পরিমাণ ১৩৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের এজেন্টের সংখ্যা তিন হাজার ৫৮৮টি এবং যাদের আউটলেট রয়েছে ৫ হাজার ৩৫১টি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জুন মাস শেষে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় মোট জমার পরিমাণ ২ হাজার ১২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। তার মধ্যে গ্রামের মানুষের জমার পরিমাণ ১ হাজার ৬৫৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এ ছাড়া শহরাঞ্চলের মানুষের জমার পরিমাণ ৩৫৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৪৪৪ কোটি টাকা জমা করেছেন ৬ লাখ ৯ হাজার ৮২৪ এজেন্ট ব্যাংকিং নারী গ্রাহক।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি ঘরে ব্যাংকিংসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভবপর হচ্ছে। গ্রামীণ সুবিধাবঞ্চিত পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং সুবিধা পৌঁছে দিতেই এজেন্ট ব্যাংকিং চালুর উদ্যোগটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়েছে বলে জানান তিনি।

সূত্র জানায়, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হিসাব খোলা, টাকা জমা ও উত্তোলন, টাকা স্থানান্তর (দেশের ভেতর), রেমিট্যান্স উত্তোলন, বিভিন্ন মেয়াদি আমানত প্রকল্প চালু, ইউটিলিটি সার্ভিসের বিল পরিশোধ, বিভিন্ন প্রকার ঋণ উত্তোলন ও পরিশোধ এবং সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সরকারি সব প্রকার ভর্তুকি গ্রহণ করা যায়। এজেন্টরা কোনো চেক বই বা ব্যাংক কার্ড ইস্যু করতে পারেন না। এজেন্টরা বৈদেশিক বাণিজ্য-সংক্রান্ত কোনো লেনদেনও করতে পারেন না। এ ছাড়া এজেন্টদের কাছ থেকে কোনো চেকও ভাঙানো যায় না। মোট লেনদেনের ওপর পাওয়া কমিশন থেকেই এজেন্টরা আয় করেন।জানা গেছে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহক তার চলতি হিসাবে সর্বোচ্চ চারবার ২৪ লাখ টাকা নগদ জমা এবং সর্বোচ্চ দুটি লেনদেনে ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করতে পারেন। সঞ্চয়ী হিসাবে সর্বোচ্চ দুইবার আট লাখ টাকা নগদ জমা এবং সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা করে দুটি লেনদেনে ছয় লাখ টাকা তুলতে পারেন। তবে রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে উত্তোলনসীমা প্রযোজ্য হয় না। দিনে দুইবার জমা ও উত্তোলন করা যায়।

এ পর্যন্ত মোট ২০ ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার অনুমোদন নিলেও ১৭ ব্যাংক সেবাটি চালু করেছে। এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করা ব্যাংকগুলো হচ্ছে, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংক, ইউসিবি ব্যাংক, এবি ব্যাংক এবং এনআরবি ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা জারির পর ২০১৪ সালে প্রথম এ সেবা চালু করে ব্যাংক এশিয়া।

"