ভিয়েতনামের হ্যানয়ে ভারত মহাসাগর সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী

বাণিজ্যযুদ্ধ বন্ধে সহযোগিতার আহ্বান

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাণিজ্যযুদ্ধ বন্ধ করতে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একতা ও পারস্পারিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ভিয়েতনামের হ্যানয়ে ভারতীয় মহাসাগর সম্মেলনে এ আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ইন্ডিয়ান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২৭ থেকে ২৮ আগস্ট আয়োজিত হয়েছে এ সম্মেলন। গতকাল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও সিঙ্গাপুর আয়োজক সংগঠনের পার্টনার। আগের দুটি সম্মেলন হয়েছে সিঙ্গাপুর ও শ্রীলঙ্কায়। এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ষাটের অধিক দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশিষ্টজন এই সম্মেলনে অংশ নেন।দ্বিতীয় দিনে মন্ত্রী পর্যায়ের সেশনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বক্তব্য দেন। এই সেশনে শ্রীলঙ্কার যুবমন্ত্রী সাগালা বাতানায়েকে, মরিশাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিতানাহ লুচিমিনারাইডো এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশমন্ত্রী থানি বিন আহমেদ আল-জিউওদি বক্তব্য দেন। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, যখন বিশ্ব একটি বিশ্বায়নবিরোধী তথাকথিত বাণিজ্যযুদ্ধের হুমকির সম্মুখীন, তখন উপযুক্ত সময়ে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো নিয়ে এ সুন্দর সম্মেলন আয়োজনের জন্য ভিয়েতনাম সরকারসহ ইন্ডিয়ান ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ। তিনি আমেরিকার ১৯২৯ সালের স্মুথ হলির রক্ষণশীল ট্যারিফ পদ্ধতির কথা উল্লেখ করে বলেন, সে সময় আমেরিকার কৃষি ও ব্যবসাকে রক্ষার জন্য ২০ হাজারেরও বেশি দ্রব্যের ওপর ৫০ ভাগের ওপরে শুল্ক আরোপ করা হয়। পরিণামে এটি তখন বিশ্ববাণিজ্যকে ৬৬ শতাংশ সংকুচিত করে সারা বিশ্বে মহামন্দা সৃষ্টি করে। তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন, বিশ্ব অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং এই তথাকথিত বাণিজ্যযুদ্ধ প্রতিহত করবে, যাতে করে এটি বেশি দিন স্থায়ী হতে পারবে না। পাশাপাশি তিনি এই অঞ্চলের সকল দেশকে বাণিজ্যযুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে দক্ষিণ-দক্ষিণ বাণিজ্য পরিধি বৃদ্ধির পরামর্শ দেন, যাতে বিশ্বায়নের অস্তিত্ব টিকে থাকবে।পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমাদেরকে অবশ্যই একসঙ্গে চলার নীতি অনুসরণ করতে হবে। কেননা, যদি আপনি দ্রুত চলেন, তবে আপনাকে একাই চলতে হবে, আর যদি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে চলতে চান, তবে অবশ্যই আপনাকে একসঙ্গে চলতে হবে।

মুস্তফা কামাল বলেন, যখন আমরা একতা ও পারস্পারিক সহযোগিতার কথা বলছি, ঠিক তখন বাংলাদেশ পার্শ্ববর্তী বন্ধুপ্রতিম দেশ মিয়ানমার কর্তৃক সৃষ্ট রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু নামক গুরুতর একটি সমস্যায় পর্যবসিত।

 

"