এমডির পদত্যাগে সংকটে পড়বে না বেসিক ব্যাংক : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ আউয়াল খানের পদত্যাগে বেসিক ব্যাংক নতুন করে সংকটে পড়বে না। পদত্যাগের বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক। এতে আমি মোটেও বিচলিত নই।

গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ব্যাংকটিতে এমনিতেই সমস্যা রয়েছে এর মধ্যে এমডির পদত্যাগে একটা নেগেটিভ বার্তা আসছে কি না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, না পদত্যাগের জন্য ব্যাংকটির কোনো সমস্যা হবে না। পদত্যাগের বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক। এতে মোটেও বিচলিত নই।

শোনা যাচ্ছে যে, চেয়ারম্যান-এমডির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণেই তিনি পদত্যাগ করেছেন এমন প্রশ্নে মুহিত বলেন, এই ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। আমি চেয়ারম্যানকে কিছু জিজ্ঞাসাও করিনি। এমডির পদত্যাগের বিষয়টি খবরের কাগজ থেকেই জেনেছি। এর চেয়ে বেশি কিছু জানেন না বলে জানান তিনি।

বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ আউয়াল খান গত ১৪ আগস্ট পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে তিনি শারীরিক অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত বিষয়ের কথা উল্লেখ করছেন। যোগদানের ১০ মাসের মাথায় পদত্যাগ করেন তিনি। পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মজিদ বলেন, এমডির পদত্যাগপত্র পেয়েছি। বিষয়টি ৩০ আগস্ট পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থাপন করা হবে।

এদিকে, ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঋণ অনুমোদন এবং কিছু ঋণ পুনঃতফসিলের মতো ব্যাংক ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পেরে তিনি পদত্যাগ করেছেন।

উল্লেখ্য, মুহাম্মদ আউয়াল খান ২০১৭ সালের ১ নভেম্বর বেসিক ব্যাংকে এমডি হিসেবে যোগ দেন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তাকে তিন বছরের জন্য এ পদে তাকে নিয়োগ দেয়। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের লোকসান হয়েছে দুই হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা। ব্যাংকটির ৬৮ শাখার মধ্যে ২১টি শাখাই লোকসান গুনছে। ২০০৯-১৩ সাল পর্যন্ত শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর আমলের চার বছরে বেসিক ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতি হয় প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বর্তমানে ব্যাংকটির দেওয়া ঋণের ৫৯ দশমিক ২২ শতাংশই খেলাপি। এখন তাদের মোট খেলাপি ঋণ ৮ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা।

জানা গেছে, বেসিক ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুসহ তখনকার ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বেনামে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করে। এটাকে ‘দিবালোকে ডাকাতি’ বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। ওই ঘটনায় এমডিকে বরখাস্ত করে পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়। পরে আলাউদ্দিন এ মজিদকে চেয়ারম্যান এবং খোন্দকার মো. ইকবালকে এমডি করে নতুন পর্ষদ গঠন করা হয়। এমডি খোন্দকার মো. ইকবালের মেয়াদ শেষ হয় ২০১৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর। পরে ২৩ অক্টোবর আউয়াল খানকে এমডি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। আউয়াল খান এর আগে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এমডি পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকেরও এমডি ছিলেন।

"