পোশাক খাতের নারীশ্রমিক

উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে সরকার

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের রফতানি আয়ের প্রধান উৎস পোশাক খাতের শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনো খারাপ বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রাণালয়ের সহকারী সচিব (আইন) বেগম মোরশেদা হাই। তিনি বলেন, গার্মেন্ট সেক্টরে নারী শ্রমিকদের উপযোগী পরিবেশ তৈরির জন্য সরকার কাজ করছে। অনেক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে তাদের পুরোপুরি হয়রানিমুক্ত করতে হলে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

গতকাল রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারে গার্মেন্ট সেক্টরে লিঙ্গভিত্তিক হয়রানি বিষয়ক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিস (ব্লাস্ট), ব্র্যাক, খ্রিস্টান এইড, নারীপক্ষ এবং এসএনভির উদ্যোগে এই সেমিনার আয়োজন করা হয়।

মোরশেদা হাই বলেন, গার্মেন্ট সেক্টরে নারী শ্রমিকদের উপযোগী পরিবেশ তৈরির জন্য সরকার কাজ করছে। অনেক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে তাদের পুরোপুরি হয়রানিমুক্ত করতে হলে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

শিশুশ্রম বন্ধ, শিল্প সেক্টরের কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, ডে কেয়ার এবং মাতৃত্বকালীন সুবিধাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে জানান মোরশেদা হাই। সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন কারখানায় ৪ হাজার ২২৪ ডে কেয়ার স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন খ্রিস্টান এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাকিব নবী, বাংলাদেশ এসএনভি নেদারল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর জেসন বেলানগর, ডেভেলপমেন্ট অব ইন্সপেকশন ফর ফ্যাক্টরিস অ্যান্ড এস্টাবলিশমেন্টের যৌথ পরিদর্শক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নারী পক্ষের প্রকল্প পরিচালক রওশন আরা প্রমুখ।

ডেভেলপমেন্ট অব ইন্সপেকশন ফর ফ্যাক্টরিস অ্যান্ড এস্টাবলিশমেন্টের যৌথ পরিদর্শক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের বেশি বেশি কাজের চাপ দিলেই উৎপাদন বাড়বে এমন চিন্তা ভাবনা থেকে মালিকদের বেরিয়ে আসা উচিত। কারণ অতিরিক্ত চাপের ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় না। এছাড়াও নারীদের কর্মপরিবেশ তৈরির জন্য পরিবহন ব্যবস্থা, অভিযোগ ব্যবস্থা সহজীকরণ এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয় ৮৭ শতাংশ নারী শ্রমিকের বয়স ১৮ থেকে ৩০ এর মধ্যে। এদের বেশিরভাগই হয়রানির শিকার হয় তাদের দায়িত্বে থাকা পুরুষ সুপারভাইজার দ্বারা। তাদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের অভিযোগ করতে ভয় পায় অনেক নারী শ্রমিক। তাদের সংখ্যাও ১১ শতাংশের ওপরে।

কর্মস্থলে যেকোনো ধরনের হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে সচেতন থাকতে হবে। পাশাপাশি নিম্ন থেকে উচ্চ পদে কাজ করার জন্য উদ্দমী হতে হবে নারীদের। তাহলে পুরুষের দ্বারা যৌন হয়রানির আর কোনো সুযোগ থাকবে না বলে মত দেন বক্তারা।

"