তিন কারণে চামড়া নিয়ে সংকট : বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, এবার তিন কারণে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার দরপতন হয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যেই আশ্বাস দিয়েছেন এটা থাকবে না, ঠিক হয়ে যাবে। তাছাড়া ঈদের আগে চামড়ার দাম কমানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল সেটা সঠিক ছিল বলেও দাবি করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গত বুধবার দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদ্যাপিত হয়েছে। এবার কোরবানি করা পশুর কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য পাননি কোরবানিদাতারা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা।

কোরবানির পশুর চামড়ার দামের সংকটের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আসলে পত্রপত্রিকায় দেখলাম চামড়া নিয়ে একটা সংকট দেখা দিয়েছে। আমি যখন দামটা কমালাম তখন সাংবাদিকদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখেছি দাম কেন কমালাম।

তিনি আরো বলেন, তিন কারণে চামড়া বিক্রি হচ্ছে না। দাম কমানোর পরও কিন্তু এখন বিক্রি হচ্ছে না এর কারণ হলো, এক নম্বর গতবারের চামড়া রয়ে গেছে, দুই-যারা ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের মালিক তারা বলছেন ব্যাংকের ঋণ সঠিক সময়ে পাওয়া যায়নি, তিন-সাভার যে শিল্পগুলো হওয়ার কথা সে শিল্পগুলো গড়ে উঠেনি। এসব নানা কারণে চামড়া কেনা-বেচা নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, তবে ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যেই আশ্বাস দিয়েছেন এটা থাকবে না, ঠিক হয়ে যাবে। আমরা যে দামটা কমিয়েছিলাম সেই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

গত ৯ আগস্ট কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের জন্য গত বছরের চেয়ে কম দাম নির্ধারণ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম পাঁচ টাকা কমিয়ে ধরা হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। গত বছর এ দাম ছিল ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৫০-৫৫ টাকা, ঢাকার বাইরে ৪০-৪৫ টাকা। অপরদিকে প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দাম সারাদেশে ১৮-২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছর ছিল ২০-২২ টাকা। আর বকরির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩-১৫ টাকা। যা গত বছর ছিল ১৫-১৭ টাকা।

ব্যাংক ঋণের বিষয় ব্যবসায়ীদের কোন সহায়তা করা হবে কিনা জানতে চাইলে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ব্যাংক ঋণ নেওয়া-পাওয়া নিয়ে আমাদের কোন হাত নেই, এটি গ্রাহক ও ব্যাংকের মধ্যকার বিষয়। গত শনিবার ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন বলেছেন যে সংকট দেখা দিয়েছে তা থাকবে না দুই একদিনের মধ্যে অবসান হবে। রোববার থেকে অফিস খোলা ব্যাংক খোলা আমার মনে হয় সংকটের সমাধান হবে।

কাঁচা চামড়া রফতানির কোনো সুযোগ দেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে কিনা এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এটা চালু করলে আমাদের চামড়া শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। এ রকম কোন পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানান তিনি।

আগামী নির্বাচন নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কারো জন্য থেমে থাকবে না। বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে তাহলে বিএনপি নামক দলটি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও নির্বাচন যথা সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। একটি দল বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত নেবে বলে মনে করি না।

"