‘কাঁচা চামড়ার দাম নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে’

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

কোরবানিতে কাঁচা চামড়ার দরপতনকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদ। তিনি বলেন, কাঁচা চামড়ার দাম নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিটিএর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিটিএ সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মাজাকাত হারুন, সহ-সভাপতি ইলিয়াসুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কাঁচা চামড়া পাচার রোধে এক মাস সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে শাহীন আহমেদ বলেন, মিডিয়ার প্রচার হচ্ছে ৩০ বছরের মধ্যে দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এ ধরনের খরব চাউর হলে চামড়া পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আমরা অনুরোধ করব, সীমান্ত রক্ষী বাহিনী যেন আরো অন্তত এক মাস কড়াকড়ি আরোপ করেন। চামড়ার কোনো ট্রাক যেন সীমান্তমুখী না হয়। চামড়া যেন পাচার না হয়।

তিনি বলেন, পাড়া-মহল্লার লোকজন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নামে জোরপূর্বক কম দামে চামড়া কেনার দায় ট্যানারিগুলো নেবে না। ট্যানারির মালিকরা নির্ধারিত মূল্যে লবণযুক্ত চামড়া কিনবে। তবে কেউ যদি চামড়ায় সঠিকভাবে লবণ না মেশায় তাহলে সেই চামড়ার দাম পাবে না। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সঠিকভাবে লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ট্যানারি মালিকরা তা সংগ্রহ করবে বলে জানান তিনি।

শাহীন আহমেদ বলেন, যারা মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী, তারা যদি চামড়াকে সঠিকভাবে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করেন, তাহলে সেটি দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত ভালো রাখা সম্ভব।

এ সময়ের মধ্যে আমাদের ট্যানারির প্রতিনিধিরা সেগুলো ন্যায্য দাম দিয়ে কিনে নেবে। এজন্য তারা যেন তাড়াহুড়া না করেন তা সে অনুরোধ করছি।

তিনি বলেন, মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা যদি সঠিকভাবে লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন তাহলে আমাদের প্রতিনিধিরা আগামী এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে বিভিন্ন হাট ও মোকামে গিয়ে চামড়াগুলো সংগ্রহ করবেন। তাই মৌসুমি ব্যবসায়ীদের বলব, আপনারা দুশ্চিন্তা করবেন না। যদি আপনারা উপযুক্তভাবে চামড়া সংরক্ষণ করে রাখেন তবে ন্যায্য দামই পাবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে বিটিএ সভাপতি বলেন, সাভারে পরিকল্পিত ট্যানারি শিল্প গড়ে না ওঠার দায় বিসিকের। ভুল তথ্য দিয়ে ট্যানারি মালিকদের সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এখানে যে বিনিয়োগ করেছিল ট্যানারি মালিকরা, তা মাঠে মারা গেছে। আগামীতে এই অবস্থা চলতে থাকলে বিসিকের বিরুদ্ধে মামলা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

"